যশোর অভয়নগরের ভৈরব নদ এখন দখল-দূষণের কবলে

যশোর অভয়নগর উপজেলার ভাটপাড়া থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত ভৈরব নদের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে গুদাম,দোকান ও আবাসিক স্থাপনা।

কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের স্থাপনা সম্প্রসারণ করেছে।নদে অবস্থানরত বার্জ ও কার্গোতে পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য নদের মধ্যে বালু,ইট ও পাথর ফেলে পাকা ঘাট তৈরি করা হয়েছে।কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি পড়ছে ভৈরব নদে।যশোরের অভয়নগর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভৈরব নদ।

উপজেলার রাজঘাট থেকে চেঙ্গুটিয়া নদের অংশে আগে থেকেই দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।নতুন করে আবার শুরু হয়েছে নদের জায়গা দখল।সাথে ভয়াবহ দূষণ।নদ-নদী,খাল-বিল ও জলাশয় জলাধারের দখল ও দূষণ প্রতিরোধ রয়েছে উপজেলা নদী রক্ষা কমিটি।

গত প্রায় আড়াই বছরে অভয়নগর উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে ভৈরব নদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভৈরব নদের দূষণ রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ ছাড়াও নদে চলাচলকারি নৌযানের পোড়া তেল,মানুষের পয়ঃবর্জ্য ও গৃহস্থালীর বর্জ্যও পড়ছে এ নদে। এতে নদের জমি দখল হচ্ছে ও দূষিত হচ্ছে পানি।জীববৈচিত্র পড়েছে হুমকির মুখে।সরজমিনে দেখা যায়,নদের মধ্যে খানিকটা জায়গা ঘিরে বাঁশের খুঁটি পোতা হয়েছে।খুঁটি ঘেঁষে টিন ও নাইলনের জাল দিয়ে দেওয়া হয়েছে বেড়া। ঘিরে রাখা জায়গা ভরাট করা হয়েছে মাটি দিয়ে।ভরাট করা জায়গার মাঝ বরাবর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি সাঁকো।

ওপরে কাঠের ছাউনি।সাঁকোর সামনে নদে এসে ভিড়ছে বার্জ ও কার্গো।শ্রমিকেরা বার্জ ও কার্গো থেকে পণ্যভরতি বস্তা মাথায় নিয়ে সাঁকো বেয়ে উপরে উঠে আসছেন।এর মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে নদের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।চারটি ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে।ঘরের ওপরের ছাউনি এখনও বাকি।এভাবে প্রতিনিয়ত নদের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা।থেমে নেই দূষণ।বিভিন্ন কারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য নদের পানি দূষিত করছে।দখল-দূষণে বদলে যাচ্ছে ভৈরবের আসল রূপ।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার যশোরের জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,মহামান্য হাইকোর্ট গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ নদ-নদীর দখল,দূষণ,ভরাট,সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। উক্ত রায়ে নদ-নদী,খাল-বিল ও জলাশয় জলাধারের দখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

উক্ত রায়ে মহামান্য আদালত প্রতিটি জেলা,বিভাগ,পৌরসভা,সিটি কর্পোরেশন অধিক্ষেত্রনাধীন নদ-নদী,খাল-বিল ও জলাশয় জলাধারের অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশের নির্দেশ প্রদান করেছেন।একই সাথে মহামান্য আদালত নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় জলাধারের অবৈধ দখল ও দূষণকে অপরাধ হিসেবে গন্য করার আদেশ জারি করেছেন।

রাস্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন,১৯৫০ এর ৮৬ ও ৮৭ধারা এবং ১৪৯(৪)ধারা অনুসারে কালেক্টরেট হিসেবে আপনি সেই ক্ষমতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত। ফলে উক্তরূপ অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিতকরণ ও তাদের উচ্ছেদের আইনানুগ ক্ষমতা ও এখতিয়ার আপনারই।কিন্তু ওই পর্যন্তই। বিষয়টি আর এগোয়নি।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর