আজ শনিবার সকাল ১১:৫৪, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

রাজশাহীতে পিডিবির ভুতুড়ে বিল নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : অক্টোবর ১৮, ২০১৭ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহী
পোস্টটি শেয়ার করুন

রাজশাহী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) রাজশাহী শাখার ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মিটারের রিডিং না দেখে অফিসে বসে বিদ্যুতের বিল করার জন্য গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। প্রতিমাসে গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল। তবে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল দিলেও গ্রাহকরা পাচ্ছে না কাঙ্খিত সেবা। এসই সাথে রয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ তাদের প্রতিমাস গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিলের টাকা। তবে পিডিবি থেকে বলা হচ্ছে লোকবল সংকটের কারণে অফিসে বসে বিদ্যুতের বিল করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, রাজশাহীতে বর্তমান বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ থেকে ৮৫ মেগা ওয়ার্ডস। কিন্তু চাহিদার তুলনায় রাজশাহীতে বিদ্যুতের সরবরাহ আছে ৫০ থেকে ৫২ মেগা ওয়ার্ড। এতে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীবাসী প্রতিদিন প্রায় ৩০ মেগা ওয়ার্ড বিদ্যুৎ কম পাচ্ছে। বর্তমান যতটুকু বরাদ্দ আসছে সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চলছে রাজশাহীর কলকারখানা বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রতিনিয়ত করা হচ্ছে লোডশেডিং। এখন গ্রাহকদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে কেনো বিল বেশি দিতে হচ্ছে। যদি সরবরাহ সঠিক পরিমান থাকে তাহলে বিল বেশি আসতে পারে। কিন্তু চাহিদার যেহুত অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সেহুত বিদ্যুৎ বিল কেনো বেশি দেয়া হচ্ছে। এক সময় চাহিদার মত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতো। সে সময় বিল দিতে হয়েছে স্বাভাবিকহারেই। কিন্তু বর্তমান কম বিদ্যুৎ পেলেও তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে কেনো ?
জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম থেকে পিডিবি থেকে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু হয়। কলকারখানা বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের বিল তৈরি নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। লোকবল সংকটের ওযুহাতে বছরের প্রথম থেকে তারা বাড়ি বাড়ি বা কলকারখানায় না গিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরি শুরু করেন। এতে দেখা গেছে একটি বাড়িতে এক হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল হলে পরের মাসে অফিসে বসে থেকে ২শ’ টাকা বাড়িয়ে ১২শ’ টাকা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। পরের মাসে আরো ২শ’ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বাড়তে বাড়তে বর্তমান এখন একটি সেই বিলের পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় ২হাজার টাকার মত। একটি কারখানার বিল ৫হাজার টাকা হলে বর্তমান সেই বিলের পরিমান এসে দাড়িয়েছে ৮হাজার টাকা। একটি দোকানঘরের বিল ১হাজার টাকা হলে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৫শ’ টাকা। এতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন পিডিবির গ্রাহকরা।
নগরীর হেতেমখা এলাকার একটি মেসের তত্বাবধায় হাসান আলী জানান, বর্তমার তার মিটারে যে রিডিং আছে তাতে তার বিল আসার কথা ১হাজার টাকার কম। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন কতদিন আগে তার মিটার দেখে বিল করেছেন তা জানা নেই। তিনি জানান ৮শ’ টাকার বিদ্যুৎ বিল বর্তমান তাকে দিতে হচ্ছে ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা। তিনি জানান, তার চারটি রুমে চারটি ফ্যান একটি করে বাল্প আছে। তারপর বিল দিতে হচ্ছে উচ্চহারে। তিনি বলেন ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। অথচ বিলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। প্রতিমাসে বাসছে বিলের পরিমান।
সবজি পাড়ার আয়ুব আলী জানান, গত বছরের শেষের দিকেও তিনি তার বাড়ির বিল দিয়েছেন ১৫শ’ টাকা। কিন্তু সেই বিল এসে দাড়িয়েছে ২৫শ’ টাকা। তিনি বলেন কবে তার মিটিার রিডিং দেখে পিবিপির লোকজন বিল করেছে তা জানা নেই। বারবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি কিন্তু বিল দিতে হচ্ছে বেশি। উপায় না পেয়ে মিটার বন্ধ করার আবেদনও করেছেন তিনি। বর্নালী মোড়ের দোকানদার সুজন জানান, গত চারমাস আগেও তিনি দোকানঘরের জন্য বিল দিয়েছেন ১৩শ’ টাকা। কিন্তু সেই বিল এসে দাড়িয়েছে ২হাজারের উপরে। এভাবে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হলে মিটার চালানো তার পক্ষে সম্ভাব হবে না বলে মন্তব্য করেন।
কেনো বিদ্যুৎ বিল বেশি ও মিটিার রিডিং না দেখে বিল প্রস্তুত করা হয় এবিষয়ে পিডিবির কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে নারাজ। তবে নাম প্রকাশ না করার সর্তে পিডিবির এক প্রকৌশলী জানান, সব বাড়ি, দোকান বা কারখানায় এমনটা হয়না। কিছুকিছু ক্ষেত্রে এটি করা হয়। তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে অফিসে এসে অভিযোগ দিতে পারেন। বিষয়টি দেখে সমাধান করা হবে জানান তিনি।