১৯৭১ সালে খুলনার বাগেরহাটে জন্ম গ্রহণ করেন ‘দীনা’ (বিদিশা এরশাদ)। বাবা কবি আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ডানপিটে স্বভারের মেয়েটি বাবা-মায়ের দেয়া ‘দীনা’ নামটি নিজেই পরিবর্তন করে স্কুলে ভর্তি হন বিদিশা নামে। এরপর থেকে পরিবারের লোকজনও বিদিশা নামে ডাকতে শুরু করে দীনাকে।
ছোট্ট দীনা থেকে নাম পরিবর্তন করে বড় হতে থাকে বিদিশা নামে। হৈ-চৈ আর খেলাধূলা করেই কাটতো দিনের বেশিরভাগ সময়। আর দশটা মেয়ের মত নিজেকে নিয়ে ভাবেননি বিদিশা। ছোট থেকেই পররোপকারী ছিলেন তিনি। সব সময় গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই মেয়েটি।
প্রিয় পাঠক বলছি প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদের কথা। বিদিশা এরশাদ বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন কবি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমার বেড়ে উঠা সাহিত্য মনার মধ্য দিয়ে। তবে আমি ছোট থেকেই ডানপিটে স্বভাবের ছিলাম। আমার কোন কাজে কেউ বাধা দিতো না।
জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বনলতা সেন’র ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য…’ এই লাইন থেকে আমার বিদিশা নামটি দেয়া।
আমার নাম ছিল দীনা। বাবা যখন কবিতা আবৃতি করতেন আমি বসে শুনতাম। আর জীবনানন্দ দাশের কবিতার ওই লাইনটি শুনে আমি নিজেই নিজের নাম রাখি বিদিশা। এরপর থেকে পরিবারের লোকজনসহ সবাই আমাকে এই নামেই ডাকতে শুরু করে। এভাবেই আমার বিদিশা নামটি পরিচিতি পায়।
বিদিশা বলেন, আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আমার বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর, তখন বাবার পছন্দ করা ছেলে ইংল্যান্ডের নাগরিক পিটার উইসনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমি পাড়ি দেই ইংল্যান্ডে। সেখানকার কালচারে বড় হতে থাকি।
এরপর সেই সংসারে আমার দুটি সন্তানের জন্ম হয়। আমার লেখাপড়া ইংল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের উপর ডিগ্রি নিয়েছি লা-সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঙ্গাপুর শাখা থেকে।
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে আমার দেখা হয় একটি এয়ারপোর্টে। তারপর ফোন নম্বর আদান-প্রদান। এরপর ভালো লাগা। তারপর শুরু হয় প্রেম। এরপর বিয়ে। আর সেখান থেকে আমি হয়ে উঠলাম আজকের বিদিশা এরশাদ। এটা ১৯৯৮ সালের কথা, তখন আমি স্বামী পিটারের সাথে সিঙ্গাপুরে বসবাস করতাম।
এরশাদ প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, এরশাদের সাথে আমার প্রেম থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু। পজেটিভ থেকে আস্তে আস্তে সব নেগেটিভ হয়েছে। তারপরে আবার সব পজেটিভও হয়েছে। যা হয়তো দেশের মানুষ জানেন না। শুরুতে আমাকে উনি (এরশাদ) কনভিন্স করতে পেরেছিলেন। এরশাদ সাহেবের অনেক গুণ ছিল।
কোয়ালিটি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন তিনি। উনি মানুষকে খুব অল্প সময়ে কনভিন্স করতে পারতেন। যা আমি অন্য মানুষের মাঝে দেখিনি। সব কিছু দেখেই আমি উনার প্রেমে পড়েছিলাম। উনি সরাসরি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে ভালোবেসেছিলেন। এরপরই তার সাথে আমার সংসার।
বার্তা বাজার/কেএ