জোটই ভরসা কল্যাণ পার্টির

সেনাবাহিনী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠন করেছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নামের রাজনৈতিক দল। সে সময় মাইনাস টু ফর্মুলার অনুসারী, যারা সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন মুহাম্মদ ইবরাহীম তাদেরই একজন। রাতারাতি পার্টি গঠন করে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের একজন খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধা এবং মেধাদীপ্ত বাগ্মী এ রাজনীতিক সে সময় থেকেই মোটামুটি পরিচিত লাভ করেছেন রাজনীতি ও রাজনীতির বাইরে। সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলায়। রাজনৈতিক গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। তাই টেলিভিশন টক শোতে তার বেশ কদর রয়েছে। অনেক ‘ওয়ান ম্যান শো’ দলের মতোই কল্যাণ পার্টি নির্ভরশীল কেবল মুহাম্মদ ইবরাহীমের ওপর।

রাজনীতিতে অতিশয় নবীন এ দলটি দুটি জাতীয় নির্বাচন পেয়েছে কিন্তু কখনই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ঘটেনি তাদের। দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অংশীদার হিসেবে রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতোই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে দলটিতে। আকারে-বিস্তারে ক্ষুদ্র হলেও ব্যক্তি ইবরাহীমের জন্যই দলটি ২০ দলীয় জোটে বেশ প্রভাবশালী বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ নানা দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে কল্যাণ পার্টি।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে এখন আসন বণ্টন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। অন্য শরিকদের মতো আসন বণ্টনের হিসাব-নিকাশ থেকে পিছিয়ে নেই কল্যাণ পার্টিও। সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতার জন্য ১০টি আসন চাইছে মুহাম্মদ ইবরাহীমের দল। এমনকি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামালের নেতৃত্বে যখন বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে আর তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি তখন ইবরাহীমের দল কল্যাণ পার্টিও এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নতুন দল হলেও ধীরে ধীরে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দলের শক্তি বিস্তৃত করতে চাইছে। এ জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অন্যতম প্রধান উপায় বলে মনে করছেন দলীয় সূত্র। ১০টি আসনে লড়াই করতে পারলে দলের পরিচিতি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়বে বলেই ধারণা কল্যাণ পার্টির নেতাদের। তবে বিএনপির কাছ থেকে ১০ আসন যদি নাও জোটে অন্তত ৫ আসন চাইবে তারা। তারা মনে করছে জোটই তাদের প্রধান ভরসা। জোটের স্বার্থ এবং শক্তিই দলটির এই মুহূর্তের আরাধ্য। নিজেদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে জোট টিকলে। তাই ১০ আসন না ৫ আসন তাদের ভাগ্যে জুটবে সেটা নির্ভর করছে জোটের সিদ্ধান্তের ওপর। তারা আস্থাও রাখতে চাইছে ২০ দলীয় জোটেই।

You might also like