১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

বেতন চাওয়ায় পিয়নকে মারলেন কলেজ চেয়ারম্যান

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০১৮

বেতন চাওয়ায় পিয়নকে মারলেন কলেজ চেয়ারম্যান

আজিজুর রহমান সুমন। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরী কলেজের চেয়্যারম্যান। এ পরিচয়টুকু সম্মানের। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে সবগুলোই অসম্মানের। গভীর রাতে হোস্টেলে গিয়ে ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়। বাড়ি ভাড়া নিয়ে মালিক বনে যাওয়া। এগুলো তাকে অমানুষের খ্যাতি এনে দিয়েছে অনেক আগেই। তবে এ অভিযোগগুলো পুরানো। দিন দিন যেন পাল্লা দিয়েই বাড়ছে তার অপরাধ।

নতুন করে আবার শিরোনাম হলেন নিজ প্রতিষ্ঠানের এক পিয়নকে মেরে। কলেজটির পিয়ন পদে মানিক মিয়া দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর কাজ করে আসছেন। ৪ মাসের বেতন বাকী ছিলো।আর তার অপরাধ বকেয়া ৪ মাসের বেতন চাওয়া। ব্যাস এটুকুতেই পিয়নকে মারার জন্য যথেষ্ট। পিয়নকে মেরে দাম্ভিকতার সাথে দমকালেন সাংবাদিককে। বললেন, নিউজ তো করবাই করো।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বেতন চাইতে গেলে বেধড়ক মারের শিকার হন তিনি। রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরির কলেজে ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘চলতি বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪ মাস ধরে আমাকে বেতন দেওয়া হয় নাই। তাই বাধ্য হয়ে কলেজের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান স্যারের কাছে গিয়ে বেতনের কথা বলি। সে কোনো কথা না শুনেই উল্টো আমাকে মারতে শুরু করে। তখন আমাকে মোট ৪ থেকে ৫ টা থাপ্পড়সহ উরুতে লাথি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভাস ঘটক ও সহকারী শিক্ষক অপু উপস্থিত ছিলো। তারা কেউই আমাকে বাঁচাতে আসেনি। পরে আমি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। সাধারণ ডায়েরি নং-১১৭৩।’

এ ব্যাপারে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কলেজটির চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, ‘তোমরা যা শুনেছ , নিউজ করে দাও। ও (মানিক) বেয়াদবি করেছে তাই মার খেয়েছে।‘

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাম্ভিকতার সুরেই বললেন, ‘মানিককে জিজ্ঞাস করো সে কি ভুল করেছে। আর নিউজ করবে তো করো’।

এই বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিচ্ছি।

পুলিশ কর্মকর্তা নাহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে জিডি হয়নি বলে দাবি করেন। শেষে তার পদ পদবী জানতে চাওয়া হলে উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। তারপর একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, কলেজ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, জিম্মি করে অর্থআদায় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে। আর চলতি মাসে তার অপকর্ম নিয়ে একটি গণমাধ্যমে ‘টার্গেট করে বাড়ি ভাড়া’ শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।