‘৯৯৯’ এ কল করে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ব্যবস্থা

এক কলে সেবা পাওয়ায় জনগণের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জরুরি সেবা ‘৯৯৯’। অপারেটররা গত ১০ মাসে মোট ৪৪ লাখের মতো ফোন রিসিভ করেছেন, যার ৫০ শতাংশই ভুয়া। অনেকে ফোন দিয়ে নারী এক্সিকিউটিভদের বিরক্ত করছেন। এবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।

‘৯৯৯’ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখ থেকে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত এখানে মোট ফোন এসেছে মোট ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮১১টি যার মধ্যে ৮ লাখ ২ হাজার ৩৫০ টি ফোন করে কলাররা নানা তথ্য ও সাহায্যের আবেদন করেছেন। অর্থাৎ মোট কলের মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল যৌক্তিক কল। বাকি ৮২ শতাংশ কলই প্র্যাংক কল এবং ব্ল্যাংক কল।

জানা গেছে, ৮২ শতাংশ কলারদের মধ্যে অনেকেই ফোন দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন যে ‘৯৯৯’ এ আসলেই ফোন করলে কেউ কল ধরে কি না। অনেকে আবার দায়িত্বরত নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর চেয়েছেন, কেউ গল্পগুজব, কেউ প্রেম আর বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। ‘৯৯৯’ এর সেবার মান বাড়াতে তাদের নম্বর ট্র্যাক করে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

‘৯৯৯’ এর দায়িত্বরত পুলিশ সুপার (এসপি) তবারক উল্লাহ্ বলেন, ৯৯৯ এ কল করে কলাররা কল সেন্টারের এক্সিকিউটিভদের প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে, আরও নানাভাবে বিরক্ত করছে। তাদের ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রিসিভ করা ৮ লাখ ফোনের মধ্যে ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬২১ টি ফোন এসেছে নানা তথ্য, পুলিশ স্টেশনের নম্বর, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সম্পর্কে জানার জন্য। মোট ২৭ হাজার ৯৫৭ জন কলারকে পরিপূর্ণভাবে সাহায্য (পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস পাঠিয়ে) করতে পেরেছে ‘৯৯৯’। এদের মধ্যে ২১ হাজার ২৫৮ জনের কলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়, ৬ হাজার ৮৫টি কলে ফায়ার সার্ভিস ও ৬১৪ জনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুধুমাত্র ফোনেই নয়, আরও আধুনিকায়ন যুক্ত হচ্ছে জরুরি সেবায়। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ, ছবি, ভিডিও পাঠানো যাবে ৯৯৯ এ। এছাড়াও ৯৯৯ এর একটি একটি অ্যাপস হচ্ছে। কেউ যদি বিপদে পড়ে তাহলে মোবাইলে অ্যাপসের মাধ্যমে একটি বাটন চাপলেই ওই ব্যক্তির স্থান ও সিম কেনার সময় দেয়া দুইটি ইমার্জেন্সি নম্বর পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে।

You might also like