ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাকৃবিতে সচেতনতা মূলক সেমিনার

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, এডিস মশা নিধন ও পরিচ্ছন্ন অভিযান উপলক্ষে সচেতনতা মূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে ওই সেমিনারের আয়োজন করে বাকৃবির ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বিষয়ক কমিটি।

এর আগে সকাল ১০ টায় বাকৃবির হেলিপ্যাড থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচাবৃীৃন্দ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। র‍্যালীটি হেলিপ্যাড থেকে শুরু হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে এসে বাকৃবির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।

সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী রুপ ধারন করেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গু জ¦রে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা জন্মায় স্বচ্ছ পানিতে আমাদের বাড়ির আশে পাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে তাই আমাদের বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে।

ব্যবহৃত জিনিস যেমন, মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময় ও কামড়াতে পারে। তাই দিনে ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে। দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গু জ¦রের কারণে প্রচন্ড জ্বর, সর্বাঙ্গে বিশেষত হাড়ে ও গাঁটে গাঁটে ব্যথা, রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, কালসিটেপড়া, শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত পড়ার লক্ষণ দেখা দেয় তাই একে হাড়ভাঙ্গা জ¦রও বলা হয়ে থাকে। সর্বোপরি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে এবং জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে বলে সেমিনারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনায় বলেন বাকৃবির কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন এবং প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহ্সিন ফারজানা।

সেমিনারে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমদের সকলের উচিৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেন, নর্দমা, আবাসিক হল গুলোতে মশা নিধনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এডিস মশার লার্ভি ধ্বংস করতে মসকিউটো ফিশ অবমুক্ত করা হয়েছে। দেশে এবং বিদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করার জন্য গবেষনা কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে মশা নিয়ন্ত্রনের জন্য আমদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব এবং ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া সহ মশাবাহিত রোগ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারব।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপচিার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ আতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মে. জসিমউদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর