এক শিক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার দুই সহকারি উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে।প্রত্যহারকৃত ওই দুই এএসআই হলেন- মো. ফারুক হোসেন ও মো. রশিদউদ্দিন।
রবিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাদের প্রত্যাহার করে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হয়েছে।প্রস্তুতি চলছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।
সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষার্থীর নাম আরাফাত ভুঁইয়া।সে বোয়ালমারী উপজেলার শেখপুর গ্রামের অবসারপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই আব্দুল হাইয়ের ছেলে।আরাফাত আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকালে বারাশিয়া নদীর পাড় থেকে আরাফাতকে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের এএসআই ফারুক ইয়াবা আছে বলে চ্যালেঞ্জ করে।পরে আরাফাতের শরীর তল্লাশি করে কোন মাদকদ্রব্য না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেন।এ সময় আরাফাতের সঙ্গে ঐ পুলিশ কর্মকর্তার কিছু কথা কাটাকাটি হয়।পরে আরাফাত মিনিট দুই হেঁটে সামনে কয়েক গজ এগোলে পিছন থেকে আবার ঐ এএসআই ফারুক এসে আরাফাতের পিছনে ইয়াবা ট্যাবলেট ফেলে দিয়ে তাকে আবারো ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে আটক করে।কিন্তু স্থানীয় লোকজন পুলিশের ইয়াবা ফেলে নাটক সাজিয়ে আরাফাতকে আটকের বিষয়টি দেখে ফেলে।তবে এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে পরে তাদের চাপের মুখে আরাফাতকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে আরাফাত বাড়িতে এসে তার বাবা অব. পুলিশের এস আই আব্দুল হাইকে সমস্ত ঘটনা বললে শনিবার (৩ আগস্ট) আরাফাতের বাবা ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামানের নিকট আবেদন করে এ ব্যাপারে প্রতিকার চান।
এই প্রেক্ষিতে আলফাডাঙ্গা থানার ওই দুই এএসআই মো. ফারুক হোসেন ও মো. রশিদউদ্দিনের বিরুদ্ধে এ প্রত্যাহারের আদেশ গ্রহণ করে।
এবিষয়ে আরাফত ভুঁইয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বার্তা বাজারকে জানান, “আমি কখনও মাদকের সাথে জড়িত না।জানিনা কেন আমার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করা হলো।গত ১আগস্ট থেকে আমার অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।পুলিশের এমন ষড়যন্ত্র স্থানীয় জনগণ না দেখলে হয়তো আমার বাকি পরীক্ষাগুলো আর দেওয়া হতো না ।”
এ ব্যাপারে এএসআই ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সাথে জড়িত অপর এএসআই রশিদউদ্দিনের মোবাইল নাম্বারেও ফোন করা হলে তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রিজাউল করিম বলেন, “আলফাডাঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে।”
বার্তাবাজার/কে.জে.পি