কথায় আছে ‘বাপ কা বেটা সিপাহী কা ঘোড়া’ অর্থাৎ বাবা যেমন তার ছেলেও তেমন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে প্রিয় সন্তানের হাত কেটে দিয়েছে ঘাতকরা।পাঠক, যার ছেলে প্রতিবাদ করতে জানে তাহলে তার বাবাটা কেমন হবে?আপনি যা ভেবেছেন তাই ঘটেছে। প্রতিবাদী বাবাকে থামানোর সাধ্যকারো নেই। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর যা ঘটেছে, সেটা আরও অবিশ্বাস্য। বিচার চেয়ে ছেলের কাটা দুই হাত নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন বাবা। গেছেন পুলিশের কাছে। ওদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে ভর্তি হাসপাতালে।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে ছেলের হাত কেটে নিয়েছে স্থানীয় মাদক কারবারীরা। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বিচার চেয়ে ছেলের কাটা দুই হাত নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন বাবা। গেছেন পুলিশের কাছে। তিনি বলেছেন, যতদিন আসামিদের ধরা না হবে, ততদিন তিনি কাটা হাত তার কাছে রাখবেন এভাবে।
পাঁচ জনের মামালা হলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, রোববার (৪ আগস্ট) রাজবাড়ীতে কেটে নেওয়া হয় ২৫ বছর বয়সী যুবক শাহিন খানের দুই হাত। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট বা পঙ্গু হাসপাতালে।
শাহিন খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের হাসেম খানের ছেলে। শোকাতুর হাসেম তার ছেলের দুই হাত পলিথিনের ব্যাগে করে সোমবার সকালে যান রাজবাড়ী সদর থানা এবং পরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সান্তনা দিয়ে আশ্বাস দেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার।

বিচার পেতে ছেলের কাটা হাত নিয়ে থানায় বাবা
হাসেম বলেন, ‘আমার ছেলেরে পঙ্গু কইরা দিছে আমি তার বিচার চাই। যতদিন বিচার না হবে, আমার ছেলের হাত আমি আমার কাছে এভাবেই রাখব’- বলতে বলতে চোখেন কোণে পানি চলে আসে বাবা হাসেম খানের।
শাহিনের বাবার অভিযোগ, এলাকার মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়েছিলেন তার ছেলে। অবৈধ কাজ করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকাল তিনটার দিকে শাহিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আধা কিলোমিটার দূরে কল্যাণপুর মহিলা মাদ্রাসার পাশে নিয়ে দুই হাতই কনুইয়ের উপর থেকে কেটে ফেলে। এসময় শাহীনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
ছেলেকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সোমবার সকালে বাবা হাসেম খান যান থানায়। মামলা করেন পাঁচজনের বিরুদ্ধে। প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইল ও শাহীনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা ছিল আগে থেকেই।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশে চাকরি করেছি, আমরা অনেক নৃশংস ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। বিষয়টি আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কল্যাণপুর গ্রামের শাহিন রারীকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত তৃতীয় আসামি। তার দেখানো মতে শাহিনের হাত কাটায় ব্যবহত তিনটি চাপাতিও উদ্ধার হয়েছে।
ভেঙে পড়ে নয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ হোক এভাবে।এমন বাবাকে বার্তাবাজারের স্যালুট।
বার্তাবাজার/এএস