মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ইলিয়াস, দরিদ্র পিতার আহাজারি

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিশু শ্রমিক ইলিয়াস সরদার। সোমবার বিকাল ৪ টায় সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার হেলাতলা গ্রামের মনিরুল ইসলামের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মারাত্মক জখম শিশু শ্রমিক ইলিয়াস সরদার (১৪) সতক্ষীরা সদরের দোহাখোলা গ্রামের হত দরিদ্র ভ্যান চালক সূরমান সরদারের একমাত্র ছেলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশু শ্রমিক ইলিয়াস সরদার সতাক্ষীরা সদর হাসপাতালে ১নং ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল।

প্রচন্ড যন্ত্রনা ও চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছিল হাসপাতালের পরিবেশ। তার শরীরের ২২% পুড়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহত শিশু শ্রমিক ইলিয়াস এর পিতা সূরমান সরদার বার্তা বাজারকে বলেন, আমার সন্তান এবার এস এস সি পরীক্ষা দেবে। আমি ভ্যান চালিয়েও সংসারে অভাব অনাটনের মধ্যে সন্তানের পড়াশোনার খরচ দিয়ে যাচ্ছিলাম।

সংসারে অভাব অনাটন এর সুযোগ নিয়ে আমার সন্তানকে আমার অগোচরে একই এলাকার মসিউর রহমানের পুত্র এসএস মিস্ত্রী তৈয়িবুর রহমান ফুসলিয়ে কাজে নিয়ে যেত। বিষয়টি আমার কানে আসার পর আমি নিজে তিন দিন তাকে নিষেধ করেছি তাকে কাজে না নিতে। কিন্তু অল্প টাকায় শ্রমিক পাওয়ার লোভে আমার সন্তানকে সোমবার সকালে আমি এবং আমার পরিবারকে না জানিয়ে কলারোয়ার হেলাতলা গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে কাজে নিয়ে যায়।

বিকাল ৪টা বাজলেও স্কুল থেকে না ফিরলে তাকে খোজাখুজি শুরু করি। ইতিমধ্যে আমার ফোনে বিকাল ৪টা ৩০মিনিটে তৈয়িবুর মিস্ত্রী ফোন করে ছেলের দূর্ঘটনার কথা বলে। প্রথমে তাকে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করলেও পরে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রচন্ড যন্ত্রনায় আমার সন্তান হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। তৈয়িবুর মিস্ত্রী আমার সন্তানকে দেখতেও আসেনি। আমার সন্তানের আজকের এই অবস্থার জন্য তৈয়িবুর মিস্ত্রী দায়ী।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান শিশুটির অবস্থা আশঙ্কা জনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিলে ভাল হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে তৈয়িবুর মিস্ত্রীর ব্যক্তিগত ফোন নম্বার ০১৯৩৪০৩৫২৮ নাম্বারে রাত্র ১০ টা ২ মিনিটে যোগাযোগ করলে সে ফোন রিসিভ করেনি। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় সূরমান সরদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর