হলের ছাত্রলীগের সভাপতিকে সালাম না দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন করেছে হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
রোববার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জামাল হোসেন হলে ওই ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার মো. মাকসুদুল হক ইমু বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
নির্যাতনকারীরা হলেন- শহীদ জামাল হোসেন হল ইউনিটের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ হিশ শাফি, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাওন এবং পাঠাগার সম্পাদক মো. রাহাত হোসেন।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের ওই নেতারা রোববার রাত ১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে হলের পূর্ব ফার্স্ট ব্লকের ৫নং কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সভাপতিকে সালাম না দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে নির্যাতন শুরু করে। রাত ১টা থেকে শুরু করে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কক্ষে আটকে রেখে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধোর করে মাকসুদুল হক ইমুকে। এ সময় তাকে মারধোরের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন ওই ছাত্রলীগ নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতিত মো. মাকসুদুল হক ইমু বলেন, মারধোরের বিষয়টি বাইরের কারো সঙ্গে শেয়ার করতে নিষেধ করেছেন। যদি বিষয়টি জানাজানি হয় তবে জামায়াত-শিবির বলে হল থেকে বের করে দিবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
হলের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ্ হিশ শাফি বলেন, এটা হলের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, যার সঙ্গে হল সভাপতি সরাসরি সম্পৃক্ত আছে। এ জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কিছু বলতে পারব না।
শহীদ জামাল হোসেন হলের ছাত্রলীগ সভাপতি দীপক হালদার বলেন, আমার হলে এমন কিছু ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী বলেন, আমি বিষয়টি মাত্র অবগত হয়েছি। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব। আর প্রশাসন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক বলেন, এই বিষয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/আরএইচ