শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ৪ আগস্ট রোববার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় আরো ২ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত ২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চিকিৎসাশেষে ৭ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।
রোববার বিকেলে জেলা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ নাদিম হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এসব ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরে তারা শেরপুরে এসে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন।
এদিকে শেরপুরে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দিয়েছে। এনএস ১ এন্টিজেন কিটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় রোববার থেকে জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। কিটের অভাবে শহরের নারায়ণপুর এলাকার ২-৩টি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অধিকাংশ সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
শহরের নারায়ণপুর এলাকার শেরপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা সহকারী মো. জুয়েল রানা রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, প্রায় এক সপ্তাহ যাবত এনএস ১ এন্টিজেন কিট নেই। ফলে তাঁদের সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা। রোববার সকাল থেকে ৪ জন রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে না পেরে ফিরে গেছেন।
এদিকে রোববার দুপুর আড়াইটায় জেলা সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে গেলে চিকিৎসাধীন রোগী নাঈম ইসলামের মা নার্গিস বেগম সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল থেকে কোন স্যালাইন দেওয়া হয়নি। সব স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার গজারিপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে জামাল ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঢাকাতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর ওইদিন দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।
জামালের বড় ভাই নাজিম উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেওয়া হয়নি। স্যালাইনসহ সকল ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নাদিম হাসান বার্তা বাজারকে বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে কিট না থাকার বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। আশা করা যায়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর শীঘ্রই কিট সরবরাহ করবেন। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে পরামর্শ দেন।
এদিকে রোববার বিকেলে জেলা সদর হাসপাতালের সভাকক্ষে বিএমএ জেলা শাখার আয়োজনে ডেঙ্গুজ্বর বিষয়ক জনসচেতনতা ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক আলোচনা সভা বিএমএ, শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি এম এ বারেক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মো. সেলিম মিঞা।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ এ টি এম মামুন, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নাদিম হাসান, জ্যেষ্ঠ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আলমগীর মোস্তাক আহম্মেদ, বিএমএ’র সাবেক সভাপতি ডাঃ মো. সুরুজ্জামান, জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাঃ খাইরুল কবির সুমন, এমওসিএস ডাঃ মোবারক হোসেন প্রমুখ। সভায় শেরপুরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী ও সেবক-সেবিকারা অংশ গ্রহণ করেন।
বার্তাবাজার/আরএইচ