কলাপাড়ায় ৪২ বছরের বসতঘর উচ্ছেদে সন্ত্রাসী হামলা

বড় মেয়ে তানিয়া মাস্টর্সের শিক্ষার্থী। মেজ সুমী অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এবং ছোট মেয়ে মিতু অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছে। এর ওপরে রোগাক্রান্ত স্বামী আবুল কালাম এখন কর্মহীন। পাঁচ জনের সংসার চলছে না মিনারা বেগমের। মেয়েরা লেখাপড়ার ফাঁকে টিউশনি করে সংসারের যোগান দেয় কোনমতে। অর্ধহার নিত্য দিনের ঘটনা। স্বামী কালাম ওয়ার্কশপ চালাতো।

এখন অসুখে কর্মহীন স্বামী। ৪২টি বছর কলাপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকায় রাস্তার পাশের এক চিলতে খাস জমিতে বসবাস। চরম দারিদ্র্য এ পরিবারে। বর্তমানে এলাকার চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী কালা মিরাজের নেতৃত্বে মিনারার ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। রাত-দিন বিভিন্ন সময় ২৫-৩০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয়। প্রথম দফা ২৮ জুলাই ঘর থেকে উচ্ছেদের জন্য হামলা চালায়। গালাগালসহ মেয়েদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মিনারার অভিযোগ। বর্তমানে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এপরিবারটি প্রতিকারের আশায় ধর্ণা দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। রোববার বেলা ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে মিনারা বেগম সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বড় মেয়ে তানিয়া। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে সরকারের খাস জমিতে বসবাস করেও স্থানীয় সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দুই হাজার টাকা করে ভিটি ভাড়া দিতেন।

তারা এখন একটি প্রভাবশালী মহলকে ওই জায়গার দখল দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে মো. সোহাগ, কালা মিরাজ, মাসুম বিল্লাহকে দিয়ে ওই জমি থেকে উচ্ছেদে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেয়। বর্তমানে এপরিবারটি সকল সদস্যদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছি। মিনারা বেগম বলেন, এখন মেয়েদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে রাত্রি যাপন করছি। এ পরিবারটির নিরাপত্তাসহ বসতঘর রক্ষার আবেদন করেছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। মিনারা আরও জানান, তিনি কলাপাড়ার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহায়তা চেয়েও পায়নি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু কোন ধরনের প্রতিকার জোটেনি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোঃ মিরাজ জানান, তিনি ওই খানে গিয়েছেন। কিন্তু কোন হামলা করেননি। বেড়া দেয়ার কথাও স্বীকার করেন।

কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ছুরিকাঘাতে জখম।। থানায় মামলা।। দুই আসামী গ্রেফতার।।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ০৪ আগষ্ট।। কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা আশিক আলী (৩৩) দুবর্ৃৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার সময় উপজেলার টিয়াখালীর ইটবাড়িয়া খেয়াঘাটে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় পায়রা বন্দরের তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহ আলম বাদি হয়ে শাকিল আহমেদ মধু ও জুলিয়াত তালুকদারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩জনকে আসামী করে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শাকিল আহমেদ মধু (২৫) ও জুলিয়াত তালুকদার (২৪) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।

পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. সোহেল মীর জানান, মোস্তফা আশিক আলী পায়রা বন্দরের জন্য লালুয়া এলাকায় প্যাকেজ-২ প্রকল্পের কাজ তদারক করে ফিরছিলেন। কলাপাড়া-কুয়াকাটা বিকল্প সড়কের বালিয়াতলী পয়েন্টের খেয়া পার হয়ে পায়রা বন্দরে যাওয়ার পথে ইটবাড়িয়া এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। পরে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। ছুরির আঘাতে তাঁর পিঠ ও বুকে ক্ষত হয়েছে।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, বালিয়াতলীর খেয়া পার হওয়ার সময় এক তরুণের মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগা নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই তাঁর ওপর কয়েক তরুণ হামলা চালায়।

কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শওকত জাহান বলেন, মোটর সাইকেলে ধাক্কা লাগার ঘটনা নিয়ে মূলত এ ঘটনা ঘটেছে। মামলার এজাহার ভ’ক্ত দুই আসামীকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর