চারদিকে জলাবদ্ধতা : স্প্রে ছিটানোর কার্যক্রম নেই পৌর কর্তৃপক্ষের

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারের চারদিকে এখন জলাবদ্ধতায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। বদ্ধ পানি এডিস মশার উৎপত্তিস্থল। যে কারণে বর্ষায় কয়েকগুণ বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিভিন্ন হাসপাতালের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০ জন। কিন্তু সোমবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০ জনে।

সাধারণত জুন-জুলাই মাসে এডিসসহ বিভিন্ন মশার উপদ্রব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে ও পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। পৌরসভা থেকে থেকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম করতে না পারায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কিছু দিন ধরে মশার আক্রমণে অতিষ্ট হয়ে আছেন পৌরবাসি। এখন শুধু রাতেই না, দিনের বেলাতেও মশার যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম নেই বলে পৌরবাসীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

মাস্টার কলনি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল বলেন, ৭/৮ বছর আগে মাস্টার কলনিতে ড্রেনেজ ব্যাবস্হা হলেও ড্রেন পরিস্কার না করায় বাসা-বাড়ির পানি যাচ্ছে না জমে যাওয়া পানিতে সহজে জন্ম নিচ্ছে মশা। মশার যন্ত্রণায় মশারি দিয়েও রেহায় পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। কিন্তু মশক নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা থেকে কোনো কার্যকরী ভূমিকা দেখছি না।

লক্ষিয়ার শামছুল আলম বলেছেন, টানা বৃষ্টির কারণে মশার উপদ্রব বেশি থাকলেও পৌরসভার কোনো কর্মীকে মশা নিধন করতে আসতে দেখিনি। রাতে ও দিনে মশার যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে আছি।

অবিলম্বে মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা থেকে জোরালো কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সরজমিনে দেখা যায় পৌরসভার অস্হায়ী অফিস থেকে মাত্র ১০০ গজ উওরের আবাসিক এলাকায় কিছু ড্রেনের উপর দিয়ে যাচ্ছে আবার কিছু অংশে পানি জমে গিয়ে মশা বংশবিস্তার করছে এবং মাত্র ৩০ গজ উওর পশ্চিমে কলেজ রোডে (ইন্দিরার পাশে) ডাবের খোসায় পানি জমে আছে।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো : হাসিবুর সাত্তার বলেন, এপর্যন্ত ৮ জন ডেঙ্গু রুগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাঁরা পাকুন্দিয়া বাসি সকলেই ঢাকা থেকে এসেছে। আমরা নিয়মিত জনসচেতনতায় বিভিন্ন স্কুল কলেজে ব্রিফিং দিচ্ছি। বাজারে বাজারে মাইকিং করা হয়েছে। পৌর মেয়র অাক্তারুজ্জামান খোকন সাহেব কে অবগতি করেছি মশা জন্ম নিতে পারে সম্ভব্য এমন জলাবদ্ধতা দূরীকরণ জন্য।

পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র অাক্তারুজ্জামান খোকন বলেন, পৌরসভা পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে মশা নিধন ওষধ দিচ্ছি। অতিবৃষ্টিতে ড্রেনেজ ভরে গেছে তাহাও খুব শীগ্রই পরিস্কার করা হবে।

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর