গোটা বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় গোলাম মাওলা রনি।খুব কম সময়ে রাজনৈতিক পাড়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন।হয়েছিলেন সংসদ সদস্য (২০০৮)।বেশ আলোচনা সমালোচনার জম্ম দিয়ে পরে আওয়ামী লীগের টিকিট মিস করেন। আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। শুধু তাই নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকেও নির্বাচন করছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির হয়ে লড়েছিলেন।
তবে বিএনপিতে যোগ দিলেও এখনও দলটির নেতৃর সঙ্গে তার সাক্ষাত মিলেনি।বিএনপিতে যোগ দেয়ার আগেই কারাগারে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।তবে মাঝে মধ্যে নেতৃকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব থাকেন রনি।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন দক্ষিণ বঙ্গের এই নেতা।
বার্তাবাজারের পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-
আমি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চাইনা – আশা ও করিনা ! কোনো কিছু আশা করা বা কোনো কিছু চাওয়ার জন্য যে পরিবেশ, পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপট দরকার তা যদি না থাকে তবে ওসব নিয়ে চিন্তা করা নির্বোধ লোকদের কাজ এবং ওসব কাজের পিছনে সময় নষ্ট করা আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয় !
কোনো কিছু চাওয়ার আগে দশবার ভাবা উচিত যে, আমি যা চাই তার দেবার মতো কোনো দাতা আছে কিনা? দ্বিতীয়ত: যদি দাতা থাকে তবে আমাকে দেবার মতো একটি মন , একটি দাতব্য চরিত্র এবং নৈতিক সাহস দাতার রয়েছে কিনা তাও আমার ভাবা উচিত !
তৃতীয়ত : আমি কেন চাইবো এবং কেনই বা পাবো এই দুইটি পরস্পরবিরোধী প্রশ্নের একটি সন্তোষ জনক উত্তর না পেয়ে কিছু চাইলে বা আশা করলে অপমান, লাঞ্ছনা এবং গঞ্জনা ছাড়া যে কিছু মেলে না তা নিশ্চয়ই বিএনপির লোকজন ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছেন !
উপরোক্ত অবস্থায় আমি শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই ! নিঃশর্ত মুক্তি চাই ! কোনো পারল – ফেরোল নয় ! প্যারোলের লোভ দেখিয়ে বিএনপিকে আরেক দফা অপমান করার ফন্দিতে পা দেবার আগে বিএনপির উচিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কর্তৃক ফাঁসি পূর্ব সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের পরিণতি স্মরণ করা !
বেগম জিয়া তার জীবনের স্বাভাবিক পরিণতিতেই এখন জীবন সায়াহ্নে অবস্থান করছেন ! এই মুহূর্তে তিনি তামাম দুনিয়ায় জনপ্রিয়তার এক জীবন্ত কিংবন্দন্তী এবং মান মর্যাদার এক বিমূর্ত প্রতীক! তার দৃঢ়তা, গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং সুনামের সঙ্গে তুলনীয় কোনো দ্বিতীয় নেতা পৃথিবীতে নেই !
বেগম জিয়াকে যারা তার শত্রুদের করুনা, দয়া এবং মর্জির উপর ছাড়তে চান তারা হবেন সেই নরপিচাশ যারা কিনা বাগদাদ পতনের পর সর্বশেষ মুসলিম খলিফা মুস্তাসিম বিল্লাহকে হালাকু খানের তাঁবুতে আত্মসমর্পনের জন্য পাঠিয়েছিলেন!
বার্তাবাজার/এএস