আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন নারীসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এসময় ৩০টি বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
রোববার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ছয় জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, সামাজিক আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসরাইল ও প্রতিপক্ষের মাতব্বর মতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিয়ার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে উভয় পক্ষ ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাইকপাড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা যেকোনো সময় আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে। অনেকে আতঙ্ক ও ভয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়তে শুরু করেছে। খবর পেয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান জানান, সামাজিক আধিপত্যের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার মোশাররফ হোসেন ও দলটির সাধারণ সম্পাদক মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উপজেলা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পর থেকে উপজেলা জুড়ে প্রায় প্রতিদিন সংঘর্ষ চলছে।
বার্তাবাজার/এএস