ঈদুল আজহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ-এর চাল আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১নং রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনসাধারন ও আ’লীগ নেতাকর্মিরা।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শনিবার(৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসন নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের তদন্ত চলাকালিন সময়ে রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ কার্য্যালয় প্রাঙ্গনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সদর উপজেলা প্রশাসন, রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়,১ নং রতনকান্দি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৩ হাজার ৬ শত ৫৩টি দুঃস্থ পরিবারের জন্য ১৫ কেজি করে মোট ৫৪.৭৯৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ (খয়রাতি) চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। যা গত মঙ্গলবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। ৩০ জুলাই মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই বুধবার ও ১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই চাল বিতরণ চলে। বিতরনকালে মোট ৩ হাজার ৬ শত ৫৩টি কার্ডের মধ্যে চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দ ৩৩৩টি কার্ডের ৫.২৫০ মেট্রিক টন চালের হদিস না মেলায় ভিজিএফের চাউল আত্বসাতের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য, স্থানীয় জনসাধারনের মাঝে তিব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসনেরও নজরে আসে।
এ অবস্থায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শনিবার সকালে রতনকান্দি ইউপির ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্য্যালয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফারদিন আহম্মেদ তদন্ত করতে ঐ ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
একই সময়ে পরিষদ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও এর অংগ-সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মিরা এবং স্থানীয় জনসাধারন।
এ সময় ট্যাগ অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা ভিজিএফের চাউল আত্বসাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যান। অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. মোক্কাদির হোসেন বকুল পবিত্র হজ্ব পালনে বাইরে থাকায় ও সচিব মোঃ মাহবুবুর রহমান পরিষদে উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ১নং রতনকান্দী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছাঃ বেবী বেগম বলেন, ৫৪.৭৯৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৪৯.৫৪৫ মেট্রিক টন চাল পরিষদের আনা হয়েছে। বাকী চাল কোথায় রয়েছে তার জবাব চেয়ারম্যান ছাড়া পরিষদের কারো জানা নেই।
বার্তাবাজার/আরএইচ