রাজধানী ঢাকাতে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। ৭ টি ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভা নিয়ে এ উপজেলার অবস্থান। ঢাকার খুব কাছে হওয়াতে ডেঙ্গু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী রয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলায়। এরই মাঝে রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে ভয়াবহ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে জনসাধারন। ডেঙ্গু জ¦র প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। সামান্য জ্বর, ঠান্ডা হলে সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ভীড় জমাচ্ছে স্থানীয় হাসপাতাল গুলোতে।
এদিকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকা গুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সভা চালিয়ে যাচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন গুলো। বিশেষ করে বরপা লাইফ এইড হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. তানজিল আহসান অভি ও আল-রাফি হাসপাতালে চেয়ারম্যান, লেখক কলামিষ্ট লায়ন মীর আব্দুল আলীম ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় জেলা (গ) সার্কেলের এএসপি, নারী ও শিশুসহ প্রায় শতাধিক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার আল-রাফি হাসপাতালে ১৫ জন, ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন, ডিকেএমসি হাসপাতাল লিমিটেডে ১৩ জন, মেমোরি হাসপাতাল লিমিটেডে ৪ জন, ভুলতা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন, মায়ের ছায়া জেনারেল হাসপাতালে ২ জনসহ প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তবে, কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীর শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ উপজেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এখনো কারো মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি।
জনসাধারনের অভিযোগ, প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাতে মশা নিধনের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট রাখা হয়। কিন্তু এ বাজেট মশা নিধনের ব্যয় করা হয় না। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে এখনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগনকে সচেতন করতে তেমন কোন প্রচার প্রচারনাও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
পলাশ নামে শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দিনদিন বেড়েই চলছে। এটি এক প্রকার মহামারি আকার ধারন করেছে। শুনেছি আমাদের উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এতে সবার মনেই আতঙ্ক দানা বেধেঁছে। অভিভাবকরা আমাদের স্কুলে যেতে দিতে ভয় পাচ্ছে।
দাউদপুর ইউনিয়ন থেকে আসা আরিফ বলেন, গত মঙ্গলবার রাত থেকে আমার খুব জ¦র আসে। পরদিন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা করলে জানতে পারি আমি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার পরামর্শ দেন।
এর আগে, গত ৭ দিন আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ধানমন্ডি গ্রীনরোড সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসাকরা তাকে রূপগঞ্জ থানায় তার নিজ কার্যালয়ে পাঠানোর অনুমতি প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য আছেন বলে জানা যায়।
গবেষক, কলামিষ্ট ও রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু রোগে ভয় না পেয়ে সবাইকে একত্র হয়ে প্রতিরোধ করার আহবান জানান তিনি।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা সকলের সাথে মিশতে পারবে। তবে ডেঙ্গু মশা কামড় দিলে তবেই আক্রান্ত হবে। এজন্য সকলকে বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে ডেঙ্গুরোধে কাজ করতে হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শাহজাহান ভুইয়া বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা মশা নিধন করতে ফগার মেশিন (মশা মারার যন্ত্র) সংগ্রহ করেছি। মশক নিধন কার্যক্রম চলছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি