১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

সাভারে এসএসসি ফরম পূরণে চলছে রমরমা ব্যবসা

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৮

সাভারে এসএসসি ফরম পূরণে চলছে রমরমা ব্যবসা

আনিসুর রহমান দিপু, সাভারঃ সাভারে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে সাভারের কিন্ডারগার্টেনগুলো রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ফরম পূরণে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে।

অতিরিক্ত বেতন, বাধ্যতামূলক কোচিং ফিসহ নানান খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে প্রতিষ্টানটি। শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সারেজমিন অনুসন্ধানে দৈনিক ভোরের কন্ঠের প্রতিবেদকের চোখে এসব চিত্র ফুটে উঠে। সাভারে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি স্কুল, নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট, লিটিল স্টার স্কুল, সাভার আইডিয়াল স্কুল, স্টুডেন্টস স্কুল অব বাংলাদেশ, সাভার পাইলট স্কুলের অবস্থান অন্যতম।

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফিসহ ফরম পূরণ বাবদ শিক্ষা মন্ত্রনালয় কতৃক নির্ধারীত ফি বিজ্ঞান বিভাগে ১৮০০টাকা, ব্যবসা শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য ১৬৮০টাকা। এছাড়া বেতন নেওয়া যাবে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বলে জানানো হয়েছিল স্কুলগুলোকে। বাড়তি টাকা আদায়ে নিষেধাজ্ঞাও ছিল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বাড়তি টাকা আদায় পুরোপুরি অবৈধ ঘোষনা করেছিলেন। অবিভাবকদের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় শিক্ষা বোর্ড। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলেছিলো, যেখানেই অতিরিক্ত ফি আদায় করা হবে সেখানেই তারা যাবে। এরপরেও সাভারের প্রায় স্কুলগুলোতে এসএসসির ফরম পূরনে রমরমা ব্যবসার দৃশ্য ভেসে উঠেছে।

নিউ মডেল প্রি-ক্যডেটের বিরুদ্ধে আয়েশা আইরিন, খাদিজা আক্তার, জিহাদ অভিযোগ করে বলেন- তারা প্রত্যেকে এ স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের এসএসসির ফরম পূরণের জন্য স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আব্দুল মান্নান প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮৫০০টাকা করে করেছেন।

আকাশ নামেরর এক ব্যবসায়ী বলেন- আমার ভাতীজি এবছর নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ওর বাবা নেই, আমরাই ওর পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। এ স্কুলের প্রিন্সিপাল আব্দুল মান্নান সাহেবের সাথে ভাতিজির ফরম ফিলাপের জন্য ৮৫০০টাকা থেকে কিছু কম রাখার অনুরোধ করেছিলাম। উনি ১টাকা কমেও ফরম ফিলাপ করাবেননা বলে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে অন্য স্কুল থেকে ফরম ফিলাপ করতে বলেছেন। পরবর্তীতে পুরো টাকা যোগার করে তিন দিন স্কুলে গিয়েও ভাতিজীর ফরম ফিলাপ করতে পারিনি। প্রিন্সিপালকে স্কুলে পাইনা, ফোন দিলেই বলে দূরে আছি।

মায়া বোশ ও মাকসুদা নামের দুই অবিভাবক অভিযোগ করে বলেন- নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রিন্সিপাল আব্দুল মান্নান ৮৫০০টাকা করে দিতে রাজি না হওয়ায় এখনো তাদের সন্তানদের ফরম ফিলাপ করছে না। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য স্কুলে প্রিন্সিপাল থাকছেনা, রাতের আধারে প্রিন্সিপালের স্ত্রী অবিভাবকদের বাড়িতে ডেকে এনে ফরম পূরণ করছে বলেও জানান।

এ স্কুলটির বিরুদ্ধে একাধিক অবিভাবক অভিযোগ করে বলেন- মান্নান স্যার ফরম ফিলাপের জন্য আমাদের কাছ থেকে ৮৫০০টাকা করে আদায় করেছে। পরবর্তীতে টিএনও ও ছাত্রলীগ অতিরিক্ত ফি আদায় করা স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দেখে স্যার ২০০০ টাকা ফরম ফিলাপের জন্য নেওয়া হয়েছে লিখা একটি কাগজে আমাদের কাছ থেকে সাক্ষর নিয়েছে। সাক্ষর না দিলে পরীক্ষার সময় সমস্যা হতে পারে বলেও কিছু কিছু অবিভাবককে হুমকি দিয়েছে বলেও জানান।

আইডিয়াল স্কুলের বিরুদ্ধে সুরুজ মিয়া নামের এক অবিভাবক অভিযোগ করে বলেন- আমার ছেলে শাকিল এবছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে যাচ্ছে। স্কুলটি আমার ছেলের ফরম ফিলাপে ১০৫০০টাকা নিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের নির্ধারিত ফি এর কথা শুনে স্কুলটির প্রিন্সিপাল তাহলে তার সাথে প্রতারনা করেছে বলেও প্রতিক্রিয়া জানান এ অবিভাবক। আইডিয়াল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইব্রাহীম, অনিক, শুভ, সাথীও স্কুলটির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।

লিটল স্টার স্কুলের বিরুদ্ধে একাধিক অবিভাবক অভিযোগ করে বলেন, তাদের সন্তানদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতিষ্ঠানটি ১০৫০০টাকা করে আদায় করেছে। এ বিষয়ে এবার সরকারের কঠোর অবস্থান দেখে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল তাজুল ইসলাম খান পরীক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করতে অবিভাবকদের অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে আমরা বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। এ স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, অতিসত্বর আমারা স্কুলগুলোতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত ফি বাদে বাকী সব টাকা পরীক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করবো বলে জানান।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান বলেন- নির্ধারিত ফি এর চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।