আজ সোমবার সকাল ৬:৩১, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী

প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় তরুণী, কারাগারে পাঠালো পুলিশ

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : অক্টোবর ১২, ২০১৭ , ৩:২৭ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : প্রবাস
পোস্টটি শেয়ার করুন

ধর্ম ছেড়ে শবনম পারভীন থেকে হয়েছেন বুল্টি মন্ডল। আর পিতৃভূমি ভারত ত্যাগ করে এসেছেন বাংলাদেশে। প্রেমের কারণে ধর্ম ও দেশ ছাড়লেও; ছাড়েনি পুলিশ। অবৈধ পথে বাংলাদেশে চলে আসার অভিযোগে তার ঠাঁই হয়েছে যশোর কারাগারে। বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে কেশবপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) জেলে পাঠিয়েছেন।

শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মন্ডলের বাড়ি ভরতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়া থানার মারাকপুর এলাকায়। তার বয়স ২২বছর। হাবড়া শ্রী চৈতন্য কলেজের বিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার ফাঁকে তিনি একটি কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার ছিলেন। বাবা আতিয়ার রহমান পঞ্চায়েতের সদস্য ও তৃণমুল কংগ্রেসের নেতা।

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়া এলাকায় যাওয়া যশোরের কেশবপুরের বিষ্ণু ম-লের সাথে তার প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে উঠে। কালীঘাটে শাঁখা সিঁন্দুর পরে বিয়েও করেছেন বিষ্ণু-বুল্টি। কিন্তু বুল্টির পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি। এজন্য তারা দুজনে অবৈধ পথে বাংলাদেশে চলে আসেন। কিন্তু পুলিশ এ দুই দম্পত্তির পিছু ছাড়েনি। জেলে পাঠিয়েছে দেশান্তরি হওয়া শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মন্ডলকে।

বিষ্ণু মন্ডল বলেন, ‘প্রায় সাত বছর আগে তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। হাবড়ায় আত্মীয়ের বাসা থেকে তিনি স্কুলে ভর্তি হন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। সেখানে তিনি একটি ইলেট্রিকের দোকানে থাকতেন। ভারতে যাওয়ার পর থেকে শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মন্ডলের সাথে তার পরিচয় হয়। তারপর ভালোবাসা থেকে বিয়ে।

কেশবপুর থানা হাজতে শবনম পারভীন বুল্টি সাংবাদিকদের জানান, তিনি হাবড়া শ্রী চৈতন্য কলেজের বিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়া-লেখার ফাঁকে তিনি একটি কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার ছিলেন। তিন মাস আগে হাবড়ায় তাদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়। সেখানে ধর্ম কোন বাঁধা নয়। কিন্তু নিজের ও স্বামী নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রায় ২মাস আগে কলকাতা কালিঘাট মন্দিরে গিয়ে শাখা ও সিঁদুর পরেন। নাম দেন বুল্টি মন্ডল। মন্দিরের পুরোহিত তার ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা জানেন না। এর পর রাতের আঁধারে কাঁটাতার পেরিয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া হয়ে তারা চলে আসেন স্বামীর বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সারগদত্তকাটি গ্রামে। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবার তিন সন্তানের মধ্যে বুল্টি দ্বিতীয়’। এসব কথা বলার সময় তাকে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মনে হচ্ছিল বুল্টিকে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন।

বুল্টির বাবার বন্ধু পরিচয়ে ঢাকার এক ব্যক্তি কেশবপুর থানায় এসেছিলেন। বুল্টি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘স্বামী বিষ্ণু মন্ডলের সাথে ছাড়া কোথাও তিনি যাবেন না’। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থার কাছে দাবি করেন, তাকে যেন স্বামীর সাথে থাকতে দেয়ার জন্য আইনি সহায়তা  দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা দুজন সারা জীবন একসাথে থাকতে চাই। আমাদের ভালোবাসার মৃত্যু হবে না। ধর্ম আমাদের কোন বাধা নয়। সীমানা আইন আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে না। তিনি দ্রুত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কাছে তার স্ত্রীকে কাছে পেতে আবেদন করবেন বলে জানান।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে শবনব পারভীন বুল্টির নামে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।