আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৪৪, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

স্কুল ছাত্রীর সম্ভ্রমের দাম মাত্র ১ লাখ টাকা!

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : অক্টোবর ১১, ২০১৭ , ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খুলনা,সমগ্র বাংলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাতক্ষীরার আশাশুনির পল্লীতে লম্পট কলেজ ছাত্র ভগিরাথ মন্ডল কর্তৃক ১৩ বছর বয়সের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

লম্পট কলেজ ছাত্র ভগিরাথ মন্ডল (২৪) উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামের বিধান চন্দ্র মন্ডল ওরফে বিধির ছেলে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মাতব্বররা সালিশি বৈঠকে ১ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ ও অবৈধ গর্ভপাত করানোর জন্য খরচ বাবদ আরো কিছু টাকা দেয়া হবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ভুপল মিস্ত্রী, সুফল মন্ডল, কমলেশ সরকারসহ একাধিক লোকজন জানান, আশাশুনি সরকারি কলেজের ছাত্র লম্পট ভগিরাথ মন্ডল তার প্রতিবেশী ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে (১৩) দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিতো। মেয়েটি কোন ভাবে রাজি না হলে সে প্রতিবেশী রবেনের স্ত্রী সাবিত্রিকে ব্যবহার করে তাকে রাজি করানোর জন্য।

সাবিত্রি মেয়েটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় ভগিরাথের বাড়িতে। সেখানে তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে ভগিরাথ। আর এ কাজে তাকে আরো সহযোগিতা করে একই স্কুলের দশম শ্রেনির ছাত্র ধিরাজ মন্ডল, অলজ মন্ডল, চিরঞ্জীত মন্ডল ও কলেজ ছাত্র সুব্রত মন্ডল।

ধর্ষিতা ওই স্কুলছাত্রী জানায়, ভগিরাথের বাবা-মা বেশিরভাগ সময় বাড়ি থাকে না। বৈশাখ মাসের কোন একদিন রবেনের স্ত্রী সাবিত্রি তাকে ডেকে নিয়ে ভগিরাথকে তরকারি রান্না করে দেওয়ার কথা বলে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে তার ঘরে গেলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে পাষণ্ড ভগিরাথ তার মুখ চেপে ঘরের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর ভগিরাথ তাকে বলে, সাবিত্রির কাছে ঔষধ আছে খেয়ে নিস। এভাবে সাবিত্রি তাকে কমপক্ষে ৫ বার ভগিরাথের বাড়ি ডেকে নিয়ে ধর্ষণে সহায়তা করে। আর এসময় উপরোক্ত ছেলেগুলি তাকে পাহারা দেয় বলে জানায় ধর্ষিতা ওই মেয়েটি।

মেয়েটির শারিরীক অবস্থা দেখে সর্বশেষ বিষয়টি জানাজানি হয় গত বৃহস্পতিবার বিকালে। মেয়েটির বাবা মা তার কাছে জানতে চাইলে সে সবই স্বীকার করে জানায়, সে ৬ মাসের অন্তঃসত্তা। পরে তার বাবা-মা স্থানীয় ইউপি সদস্য শচীন্দ্র মন্ডলকে বিষয়টি জানালে তিনি গত শুক্রবার রাতে রতন মন্ডল, ক্ষিতিশ মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসেন।

সালিশি বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেযা হয় ক্ষতিপুরন হিসাবে মেয়েটির পরিবারকে নগদ ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আর গর্ভপাত করাতে যে খরচ হবে সে খরচটিও দিতে হবে লম্পট ধর্ষকের পরিবারকে।

সে মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার মেয়েটিকে লম্পট ভগিরাথের মামা বামনডাঙ্গা গ্রামের মনিন্দ্র নাথ ঢালী প্রভাবখাটিয়ে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে গর্ভপাতের জন্য নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে মেয়েটির গর্ভের বাচ্চার বয়স ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে একপর্যায়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। মেয়েটিকে বর্তমানে বিভিন্ন গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, ৬ মাসের অন্তঃসত্তা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটির গর্ভপাত ঘটালে তার জীবন শঙ্কায় পড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় লম্পট ভগিরাথ মন্ডলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

খুলনা বিভাগের আরো খবর