সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। গত ২ দিনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অ্যান্টোমোলজি টেকনিশিয়ানরা শহরের পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পর্যাবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে এডিস মশার লার্ভা এবং এডাল্ট মশা পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জে পরীক্ষা করা প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,এখন পর্যন্ত জেলায় ৫০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন,বাকিরা সিরাজগঞ্জ সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে ডেঙ্গু রোগের প্যাথলজিকাল পরীক্ষার সরকারি মূল্য ৫০০ টাকা নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দিয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.জাহিদুল ইসলাম বার্তা বাজার’কে জানান,পৌর এলাকা থেকে এডিস মশার পর্যাপ্ত লার্ভা পাওয়া গেছে। আরও অনেক স্থানে থাকতে পারে। শুধু ওষুধ দিলে হবে না সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে লিফলেট,ব্যানার, প্রচার মিছিল এবং বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে গিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অ্যান্টোমোলজি টেকনেশিয়ান মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত দুই দিন আমরা সিরাজগঞ্জের সার্কিট হাউজসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছি এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ পৌর সভার ক্যাম্পাসের ভেতর স্তূপ করে রাখা গাড়ির টায়ারের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ এডিস মশার লার্ভা পেয়েছি।
মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুলিশ সুপারের বাসভবনের ফুলের টবে লার্ভা এবং তিনটি এডাল্ট মশা পেয়েছি। গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনে এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলাসহ করেকটি বাড়িতে আমরা এই লার্ভা পেয়েছি। যেখানে আমরা লার্ভা পেয়েছি সেখানে মশা নিধন ওষুধ দিবার পরামর্শ দিয়েছি। এই লাভাগুলো আমরা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে এই এডিস মশার লার্ভা শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি বাড়ির ফুলের টব,পুরাতন বোতল, ডাবের খোসা এগুলো পরিষ্কার করার জন্য। কারণ এই এডিস মশার জন্ম হয় সাধারণত পরিষ্কার পানিতে আর এসব স্থানেই পরিষ্কার পানি থাকে।
সিভিল সার্জন কার্যলয়ের আরেকজন অ্যান্টোমোলজি টেকনেশিয়ান মো.জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমরা সিরাজগঞ্জে দুই দিনে যে পরীক্ষা করেছি তাতে প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। লার্ভা থেকে মাত্র দুই দিনেই একটি এ্যাডাল্ট মশা জন্ম নিতে পারে। এখন যদি সচেতন না হওয়া যায় তাহলে এটি এশটি বড় সমস্যা হবে এই শহরের জন্য। আমরা পৌরসভাকে জানিয়েছি কোথায় কোথায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তারা সেটা অনুযায়ী তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সিরাজগঞ্জে এডিস মশার বিস্তার রোধে পৌরসভাকে আরো কার্যকরী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন নাগরিকরা। মশা নিধনে পৌরসভা যে কাজ করছে সেটা পর্যাপ্ত না। বাড়ির আঙিনায় শখ করে লাগানো ফুলের টবের পানি থেকে জন্ম নিতে পারে এডিস মশা যার একটি কামড় কেরে নিতে পারে একটি জীবন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। জেলায় এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করার আগে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও ঘর পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।###
বার্তাবাজার/আরএইচ