সম্প্রতি দেশে অপরাধের মাত্র ক্রোমাগত বেড়ে গেছে।এই অপরাধীদের বিভিন্ন দল রয়েছে।তার মধ্যে এখন বেশ সক্রিয় ‘গ্যাং কালচারের’ নামে গ্রুফটি। নজরে এসেছে উপরের মহলেও।তাই তাদেরকে দমনে আলাদা ভাবে কাজ করছে রাব সদস্যরা।ঢাকা ও চট্টগ্রামে এমন একাধিক গ্রুপের সন্ধান ও গ্রেফতারের পর এবার বরিশালে ভয়ংকর ‘আব্বা গ্রুপ’-এর সন্ধান পাওয়া গেছে।
বরিশালে বেশ কিছুদিন ধরেই ৪৫ সদস্যের এই ‘আব্বা গ্রুপ’টি আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনার পরেও তাদের লাগাম টানা যাচ্ছে না।
এই গ্রুপের সদস্যরা পুলিশের হাতে আটক হলেও তাদের পৃষ্টপোষক ‘মুরব্বিদের’ আশীর্বাদে মুক্ত হয়ে যায়। কিশোর সন্ত্রাসীদের নিয়ে গঠিত ‘আব্বা গ্রুপ’টি বরিশালের সদর রোডকেন্দ্রিক।
এই গ্রুপটি পরেশ সাগরের মাঠ, বাংলাদেশ ব্যাংক রোডের মুখে, জিলা স্কুল মোড় এবং সিটি কলেজ ও আশপাশের এলাকায় আড্ডা ও প্রভাব বিস্তার করে।
সম্প্রতি ‘আব্বা গ্রুপের’ নেতৃত্বে থাকা সৌরভ বালা ও তানজিম নামের দুই যুবক আটক হয়। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে তারা মুক্ত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রুপের কাউকে গ্রেফতার করা হলে নেতাদের ‘তদবির’ যন্ত্রণায় থাকতে হয় পুলিশকে। তাদের বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্রের মজুদের নির্ধারিত জায়গাও আছে।
কলেজকেন্দ্রিক নানা অপকর্মের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার পুলিশ এই গ্রুপের সৌরভ বালাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে কথা হয় সিটি কলেজের ক্যাশিয়ার এসএম সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে কলেজের অফিস কক্ষের আলমারি ভেঙে টাকা লুট করেছিল তারা। ২৯ জুলাই ওই মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পরই সৌরভ বালারা ক্যাম্পাসে ঢুকে হট্টগোল করে। খবর পেয়ে পুলিশ সৌরভ বালা ও ইয়ামিন হোসেন জুয়েলসহ তিন যুবককে আটক করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ হট্টগোলের ওই ঘটনায় মামলা না করায় পুলিশ তাদের মেট্রো অধ্যাদেশে আদালতে পাঠায়।
সৌরভ বালা ও ইয়ামিন হোসেন গত বুধবার (৩১ জুলাই) ছাড়া পেয়েই দলবল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষকে কুপিয়ে জখম করে।
শুক্রবার দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই গ্রুপের সদস্যরা সিটি কলেজের একটি রুম দখলে নিয়ে ‘টর্চার সেল’ করে সেখানে মাদক সেবন থেকে শুরু করে সব অপকর্মই করে যাচ্ছিল। ধরে এনে এই কক্ষে চালানো হতো নির্যাতন।
বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে আসার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষ এসব দেখে না দেখার ভান করায় তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
‘আব্বা গ্রুপ’ ছাড়াও বরিশাল বিএম কলেজে আজমল হোসেন রুমনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গ্রুপের প্রধান রুমনের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলাও আছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিস্তর অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের ১০১নং কক্ষে বসবাসরত আজমল হোসেন রুমনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে দোকান ভাংচুরের অভিযোগ ছাড়াও তার রুমে প্রায়ই বসে মাদক সেবনের বিশাল আড্ডা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, কিশোররা যখন অপরাধ করে, তখন তাদের অপরাধীর চোখেই দেখি। সে যে ধরনের অপরাধ করবে, সেই রকম আইনে তার বিচার হবে।
বার্তাবাজার/এএস