১৭, জুলাই, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৪ জ্বিলকদ ১৪৩৯

‘ঝিকজাঁক পরীক্ষা’ এবং শুধু ‘চাকা ঘুরলেই’ দিতেছে বিআরটিএর লাইসেন্স !!

আপডেট: মে ১১, ২০১৮

‘ঝিকজাঁক পরীক্ষা’ এবং শুধু ‘চাকা ঘুরলেই’ দিতেছে বিআরটিএর লাইসেন্স !!

রাজধানীতে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। যার ফলে পঙ্গু হচ্ছে শতশত পরিবার। প্রাণ ঝরছে সাধারণ মানুষের। রাজধানীর সড়কে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে চালকরা সচেতনতার নূন্যতম প্রমাণ দিয়েছে এমন নজির বিরল।

বিশেষজ্ঞদের মতে- সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের দায় সবচেয়ে বেশি। কারণ কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই এক শ্রেণির চালক গাড়ি নিয়ে নেমে পড়ছে মূল সড়কে। এদের মধ্যে গুটিকয়েক ছাড়া কারো লাইসেন্স নেই। আর যাদের লাইসেন্স আছে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

বুধবার (৯ মে) বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) গাড়ির লাইসেন্স নেয়ার পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, লাইসেন্স নিতে হলে তিনটি ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক। তবে এই তিনটি ধাপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যবহারিক পরীক্ষা।

নিয়ম অনুসারে এই পরীক্ষার নাম দেয়া হয়েছে ‘ঝিকজাঁক পরীক্ষা’। যার জন্য দিতে হবে ২০০ টাকা। বাঁশের খুটি দিয়ে তৈরি এল শেপের রাস্তা দিয়ে যথাযথ স্থানে গাড়িটি পার্ক করতে পারলে তবেই পরীক্ষায় পাস।

কিন্তু সরজমিনে দেখা গেছে- বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, গাড়ি দুই হাত সামনে অথবা পেছনে নিলেই পাস করিয়ে দিচ্ছেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে পরীক্ষা দিতে আসা আমান বলেন, ‘কোন দালাল ছাড়াই তিনি ব্যাংকে ৫১৮ টাকা জমা দিয়ে শিক্ষানবিশ কার্ড নিয়েছেন। পরে ২৮০০ টাকা জমা দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষা দেয়ার জন্য তারিখ নিয়েছেন। তবে এর আগেও তিনবার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমি হতাশ। শুনেছি দালালের মাধ্যমেও এই পরীক্ষা পাস করা যায়। এখন হয়তো সেটাই করতে হবে।’

কেউ কেউ আবার পরীক্ষা পাসের জন্য টাকা দিয়ে চুক্তিও করেছেন। বলছেন, ‘এখন শুধু উপস্থিত থাকলেই হবে। পরে একদিন বিআরটিতে এসে আঙ্গুলের ছাপ আর ছবি দিয়ে যাবো।’

এ ব্যাপারে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন বলেন, ‘এল শেপে পার্ক করাকে নবায়ন পরীক্ষা বলা হয়। তবে সেটা বড় কোনো ইস্যু নয়। তাছাড়া তাড়াতো শ্রমিক, অনেকেই অনুরোধ করেন; তাই একটু ছাড় দিতে হয়।’

‘তবে, এ ছাড়ের কারণে ঝুঁকি একটু থেকেও যায়’ স্বীকারও করেন এ কর্মকর্তা। বলেন, ‘তারপড়ও সবকিছু দেখেই আমরা তাদের লাইসেন্স দেই।’

তিনি দাবি করেন, ‘যে চালকরা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদের কারো কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।’