জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যম্পাসে সামাজিক সংগঠন,বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস পরিস্কার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতামূলক র্যালিও করা হয়েছে।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অনাবাসিক হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বসবাস পুরাণ ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায়। এ এলাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। ক্যাম্পাস পরিস্কার রাখা হলেও শিক্ষার্থীরা থাকছেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।
ঘিঞ্জি এলাকার এডিশ মশার কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা ফলে আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু রোগে। দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিকের উপরে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছেন ঢাকা ন্যাশনাল ও সুমনা মেডিকেলে।
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শীঘ্রই ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি তুলে মন্তব্য করছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনও ভিসি বরাবর ক্যাম্পাস বন্ধের আবেদন করেছিলেন। উপাচার্য তা নাকচ করে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জবির ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৫,নৃবিজ্ঞানের ৫,রসায়নের ২,সমাজকর্মের ৩,গণিতের ৩,অর্থনীতির ৩,দর্শনের ২, ফার্মেসী ৪,ভূগোলের ৪,ফিল্ম এন্ড টেলিভিশনের ২,বাংলার ২,মার্কেটিং ২,প্রাণী বিদ্যার ৭,পাবলিকেডের ২,একাউন্টিং এর ২,সমাজকর্মের ৭,ল্যান্ড ল এর ১,ইতিহাসের ৪,পদার্থের ২,সাংবাদিকতার ২,ইংরেজীর ১,নাট্যকলার ২,ইসলামের ইতিহাসের ৩,রাস্ট্রবিজ্ঞানের ৫,আই ই আরের ৩, ইসলামিক স্টাডিজের ৪,মাইক্রোবায়োলজির ২,মনোবিজ্ঞানের ২,সংগীতের ১,বায়োকেমিস্টির ১,উদ্ভিদবিদ্যার ২, সি এসইর ১ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: মিতা শবনম বলেন, প্রতিদিনই প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী জ্বর নিয়ে আসছেন। আমাদের এখানে প্যাথলজির ব্যবস্থা নেই। ডেঙ্গু রোগ সনাক্তের জন্য শিক্ষার্থীদের কোন টেস্ট করাতে হবে আমরা তা লিখি দিচ্ছি ও পরামর্শ দিয়ে দিচ্ছি।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনিয়া নীলা বার্তা বাজারকে বলেন,ডেঙ্গু হওয়ায় মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে পারিনি। ক্যাম্পাস খোলা থাকায় ক্লাসও চলছে। ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলে আমার ক্লাস গুলো মিস হতো না।
১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির ও রাজিব বলেন,ক্যাম্পাস পরিস্কার রাখা হচ্ছে এটা ভালো দিক। একদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি অন্যদিকে পুরাণ ঢাকার এই ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাসে আমরা আতঙ্কের ভিতর আছি। শীঘ্রই ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ক্লাস,মিডটার্ম মিস হতনা।
সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে জবি উপাচার্য বার্তা বাজারকে বলেন,ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ফলে প্লাটিলেট কমে যায়,তাই আমরা বাঁধনকে প্রস্তুত রেখেছি। স্টুডেন্ট সাপোর্ট সিস্টেম চালু থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে ন্যাশনাল মেডিকেল এ পাঠিয়ে দেয়। ক্যাম্পাস বন্ধের বিষয়ে বলেন যথাসময়ে ক্যাম্পাস বন্ধ হবে যেহেতু আমরা সব ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি।
বার্তা বাজার/কেএ