বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ও বাঙালিত্বকে শেষ করা বলে মন্তব্য করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অন্তরালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড” শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান বলেন,বঙ্গবন্ধুকে হত্যা অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়,তখন পুরো বিশ্ব মার্কিন বলয় ও সোভিয়েত বলয় দুটো ভাগে বিভক্ত ছিল। তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষমতাচ্যুতের ঘটনা ঘটতো।
এক শাসককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক জনকে ক্ষমতায় বসানো হতো। বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল উদ্দেশ্যে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াকে ক্ষমতায় বসানো মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও বাঙালিকে শেষ করা।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছিল বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালে আমরা সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম এটা ভুল কথা। তখনো আমরা একত্রিত ছিলাম না। এদেশে বিরোধীরা অনেক আগে থেকেই ছিল। রাজাকার বাহিনী,বিভিন্ন শান্তি বাহিনী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেছে।
মুসলিম উম্মাহর সকল দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.এস এম আনোয়ারা বেগম।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়। কিন্তু রাজাকাররা তো পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা এদেশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে বিদেশীদের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করেন। বিশেষ করে চীনপন্থী ও আমেরিকা মিলে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো।
তিনি আরো বলেন,বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিষয়টি ডিজেএফআই সহ বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে জানান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন,তারা (সেনাবাহিনী) আমার সন্তানের মতো। ওরা আমার কোন ক্ষতি করবে না।
মূল প্রবন্ধের উপর আরো আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন ড.কাজী সাইফুদ্দিন,ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তপন কুমার পালিত,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিক হোসেন খান।
আলোচনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান,শিক্ষক,শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
বার্তা বাজার/কেএ