সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ১০৯ নং চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কোচিং বানিজ্যেসহ নানান অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের তালা খোলার আগেই শ্রেণিকক্ষে ৫ম শ্রেনীর প্রায় অধ্যশত শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুক্রবার ব্যতিত অন্যান্যদিনে চলে তার বাধ্যতামূলক স্পেশাল কোচিং বাণিজ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষিক মো.জাহাঙ্গীর আলম স্কুল খোলার নিদিষ্ট সময়ের আগেই অর্থাৎ সাড়ে ৮ টার দিকে স্কুলে এসে স্পেশাল নামক কোচিং ক্লাস নিয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। কোন কোন দিন ঘন্টা খানেক থাকেন। যদি ও প্রতিষ্ঠানে থাকার নিয়ম বৃহস্পতিবার ২ টা ৩০ মিনিট ও অন্যান্যদিন ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
স্থানীয় অভিভাবকরা আক্ষেপ করে বলেন,প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা হওয়ায় স্কুলের সময় বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে তদবির ও বদলি বানিজ্যে লিপ্ত থাকেন। এটা নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ক’দিন আগে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো। তার অবহেলার কারণে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুল চলাকালিন সময়ে খেয়াল খুঁশিমতো স্কুলে আগমন ও প্রস্থান করে হাজিরা খাতা ঠিকঠাক করে রাখে।
আরও কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমরা গরিব দরিপ মানুষ ছেলে মেয়েকে লেহা পড়া করার জন্য স্কুলে দিছি এহন স্যাররা যা কয় তাই শুনে মাসে মাসে ৫’শ করে ট্যাহা দেয়। হেড স্যার তো শুধু কোচিং করে ট্যাহা নেয়। আর অন্য স্যাররা তো ছেলে মেয়েদের ঠিকমত পড়ালেহাই করাইনা।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৩১ জুলাই) সাড়ে ৮ টার দিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শ্রেনীকক্ষে তালা থাকলেও একটি কক্ষ দখল করে ৫ম শ্রেণীর প্রায় অধ্যশত শিক্ষার্থীদের অংক করতে দিয়ে চেয়ারে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। শিক্ষকের বিভিন্ন প্রকার আকার ইঙ্গিত থাকলে ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হলে সকলে উচ্চ স্বরে বলেন,আমরা স্পেশাল কোচিং করছি,স্যার কত টাকা নেয় এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা বলেন,মাসে ৫’শ করে টাকা নেয়।
যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর ০১ নং অনুচ্ছেদের (চ) অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকের নির্ধারিত ক্লাশের বাইরে বা এর পূর্বে অথবা পরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে/বাইরে কোন স্থানে পাঠদান করাতে পারবেন না।
নাম প্রকাশ না শর্তে স্কুলের নিকটবর্তী এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন,স্কুল খোলার সময় হওয়ার আগেই ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক ক্লাসের মতো কোচিং করান প্রধান শিক্ষক।
কোচিং শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান,আমরা জাহাঙ্গীর স্যারের কাছে সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত অংক বিষয়ে স্পেশাল কোচিং করে মাসে ৫’শ করে টাকা দেয়। প্রতিদিন আমরা সাড়ে ৮ টার সময় স্কুলে এসে স্যারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলি। তারপর মামা (দপ্তর) এসে সব ক্লাসের দরজা খুলে দেয়।
নাম প্রকাশ না শর্তে অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য জানান,সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কোচিং করায় বলে প্রধান শিক্ষককে বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলাম এগুলা বাদ দেন স্যার আর তিনি বলেছিলেন,আমি জেলা শিক্ষক সমিতির নেতা আমার সমস্যা হবে না। তারপর থেকে আর কিছু বলিনা।
এ দিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান,শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর জন্যই ৫ম শ্রেণীদের স্পেশাল কোচিং করাই। তবে এটার জন্য কোন টাকা পয়সা নেয়না।
এ বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ফিরোজ আলম খাঁনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে,তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আপেল মাহমুদ জানান,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য একজন সহকারি শিক্ষা অফিসারকে (এটিও) আজই দায়িত্ব দেবো। যদি ঘটনার সত্যতা মেলে তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি