বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বর্ষীয়ান আওয়ামীলীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন সরকার মুকুল আর নেই। গত ৩০ জুলাই বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ধুনকুন্ডি গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জটিল রোগে ভুগছিলেন। গতকাল ১ সেপ্টেম্বর বাদ আসর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।
তিনি ১৯৪৬ সালের ২ মে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ধুনকুন্ডি গ্রাামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে তিনি প্রথমবার সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি পরপর ৩ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রায় ২২ বছর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সৎ, দেশপ্রেমিক পরোপকারী ও নিঃস্বার্থ সমাজ সেবক ছিলেন।
পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে সমাজেরে বিপদ গ্রস্থ অসহায় মানুষের সেবা করতেন। ন্যায়-নীতিবান, জনদরদী চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি শুধু সীমাবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের নিকটই জনপ্রিয় ছিলেন না বরং দক্ষিণ বগুড়ার মানুষের কাছেও তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্শান্বীত। তিনি তৎকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন এবং চীন সফর করেন। তিনি বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি সীমাবাড়ী মহিলা কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মরহুম আশরাফ উদ্দিন সরকার মুকুল দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক মুহঃ আসফ-উদ-দৌলা রেজার চাচাতো ভাই। তিনি সত্তর দশকে দৈনিক ইত্তেফাকের বগুড়া সংবাদদাতা হিসেবেও সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে সহ আত্মীয়স্বজন ও গুণাগ্রহী রেখে গেছেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি