নোয়াখালীতে সড়কের প্রায় প্রত্যেক গাছেই বিজ্ঞাপন লাগানোর জন্য পেরেক মারা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসকের চেম্বার, চিকিৎসালয়, নতুন-পুরাতন দোকানির প্রচার, বাড়ি ভাড়া, সাবলেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পেরেক ঠুকে লাগানো হয়েছে সড়কের পাশের গাছে। এমন নির্মমতায় অনেক গাছ মরেও গেছে।
নোয়াখালী জেলা সদর থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলা সদরের একবারে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি গ্রামীণ সড়ক বিজ্ঞাপনের দখলে। হাটবাজারের যাত্রী স্টপেজ, সড়কের মাঝখানের মিডিয়ান এমনকি ঝড়ে বিধ্বস্ত অধমৃত গাছটিও বাদ যায় না বিজ্ঞাপনের পেরেকের এমন নিষ্ঠুর আঘাত থেকে। আর জীবিত গাছের দিকে তো তোয়াক্কা নেই কারোই।
সরেজমিনে পুরো জেলার বনবিভাগের সৃজিত গাছে বিভিন্ন ডাক্তারদের চেম্বার, কিছু বস্ত্র দোকান, রাজনৈতিক ব্যানার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিজ্ঞাপনই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। ছোট ছোট সাইজের পাশাপাশি বড় ও মাঝারি সাইজের বিজ্ঞাপনও দেখা যায় অনেক স্থানে।
জেলার পরিবেশবাদী নুর আলম মাসুদ জানান, আঘাত পেলে মানুষের যেমন কষ্ট হয়, তেমনি গাছকে আঘাত করলে গাছও কষ্ট পায়। এটি একটি অমানবিক কাজ। তাছাড়া গাছের যেখানে পেরেক ঠুকানো হয় সেখানে ইনফেকশান হয়ে গাছটি দুর্বল হয়ে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ও ব্যথা নিয়ে গাছটিকে বাঁচতে হয়।
এ বিষয়ে জেলার উপকূলীয় বন কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন তার জানা নেই। তবুও এমন অমানবিক কাজের জন্য ন্যূনতম আইনগত উদ্যোগ প্রয়োজন। এটি বন্ধে কঠোর আইন হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নোয়াখালী বনবিভাগের আইন কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন ভূঁঞা জানান, গাছেরও প্রাণ আছে। প্রাণীদের মতো উদ্ভিদও আঘাত পেলে কষ্ট পায়। পেরেক ঠুকে গাছের জীবননাশকারীরা তা উপলব্ধি করা তো দূরের কথা বরং এ নিষ্ঠুর কাজটি বীরদর্পে করেই চলছেন। পেরেক ঠুকে গাছে বিজ্ঞাপন লাগানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি