বাকৃবির উপাচার্যের কাছে শীক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২৪ তম উপাচার্য হিসেবে ৪ (চার) বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান।
অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার নয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮১ সনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে সহকারী প্রফেসর, ১৯৯১ সালে সহযোগী প্রফেসর ও ১৯৯৫ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন।

কর্মজীবনে অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কৃষি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি, ক্রপ সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, বাংলাদেশ জেএসপিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারের পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন ২০১৪ এর সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর বায়োটেকনলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শহীদ শামসুল হক হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি এবং কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্সে যোগদান করে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তার কৃষিসংশ্লিষ্ট ৫টি বইসহ ১৬৬টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি ৩০টি দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।

বাকৃবির বর্তমান উপাচার্যের এই সুবিশাল কাজের দক্ষতার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আস্থা রয়েছে। ইতিমধ্য তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ করে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। তবুও শিক্ষার্থী হিসেবে উপাচার্যের কাছে কিছু প্রত্যাশা আছে যা হয়ত বিভিন্ন ভাবে করা হয়ে উঠছে না বা দাবিগুলো কারোর দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। বিষয় গুলোর প্রতি যদি একটু গুরুত্ব দেওয়া যায় তাহলে ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নতির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি গুলোও আদায় হয়ে যাবে।

বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নতিকল্পে বাকৃবির শিক্ষার্থী সাহিত্যক কামরুল হাসান কামু বলেন, সমাবর্তন ছাত্রজীবনের অন্যতম প্রাপ্তিস্বীকারপত্র গ্রহণের দিন। কারণ এইদিনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মূল সনদপত্র বিতরণ করা হয়। তাছাড়া সমাবর্তন প্রত্যাশী সকলে এই মিলনমেলায় নিজেদের পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই ২০১৬ সালে সপ্তম সমাবর্তনের পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বি ত। আমি বিশ্বাস করি, নবনিযুক্ত উপাচার্য শ্রদ্ধেয় লুৎফুল হাসান (মন্টু) স্যার, একজন বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব, তিনি ছাত্রছাত্রীদের পালস বুঝতে পারেন। ইতোমধ্যে তিনি ডিজিটাল ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের জন্যে স্বাস্থ্যবীমার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। আশা করি শীঘ্রই স্যারের মাধ্যমে নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

আমি যেহেতু সাহিত্যের লোক, একটি বিষয় দরাজগলায় বলতে চাই, মানবিক গ্রাজুয়েট তৈরীর জন্যে সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকল্প নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংঘের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন কালে দেখেছি,শিক্ষার্থীরা পূর্বের চেয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি ক্রমশ বিমুখতা দেখাচ্ছে। এর জন্যে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। যেহেতু ছাত্রসংসদ কার্যকর নেই তাই হল প্রভোস্টদের কাছে আমার আহ্বান, তাঁরা যেন হলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তা করে। একটা বিষয় অপার বিস্ময়ের, আমার শিক্ষাজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখিনি। সংস্কৃতির বিকাশের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হচ্ছে। আশা করবো শ্রদ্ধেয় উপাচার্য মহোদয় এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিবেন।

বাকৃবি শিক্ষার্থী পর পর দুইবার বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়ার হওয়া বাকৃবির দ্রুততম মানব খ্যাত তারিক জামান জয় বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য যেমন আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তির সংমিশ্রণ প্রয়োজন তেমনি সুস্থ দেহ সুস্থ, পরিবেশ আবশ্যক। সুস্থ দেহ সুন্দর মন মাদক মুক্ত গড়ব সমাজ এই স্লোগানকে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ আমরা পাই না। বাকৃবি জিমনেশিয়াম এর দুরবস্থার কথা সবারই জানা তারপরেও দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন সামান্য কিছু উপকরণ দিয়ে দায়সারা কাজ চলতেছে। যেখানে শিক্ষকদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকলেও ছাত্র খেলোয়াড়দের জন্য নেই। এছাড়া বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে বাজেট স্বল্পতাজনিত কারনে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারিনা। যার জন্য খেলোয়াড় অনুৎসাহিত হয়ে খেলাধুলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আন্তঃফ্যাকাল্টি খেলা যথাসময়ে না হওয়া, বঙ্গবন্ধু টুর্নামেন্ট সহ বিভিন্ন নামকরা টুর্নামেন্টে আমরা অংশ নিতে পারি না। আর অংশ নিলেও দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও আমরা সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পাই না যেটা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমাদেরকে অপমানিত করে। দৌড়ের ট্র্যাক থাকা সত্ত্বেও তা অযত্নের র অভাবে ঘাসের নিচে থাকায় ছাত্ররা দৌড় অনুশীলন করতে পারে না।

সর্বোপরি মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান, খাবারের ন্যায্যমূল্য, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রন, চুরি রোধে প্রত্যেকহলে সিসি ক্যামারে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার শ্রেণীকক্ষে এসি এখন সময়ের দাবী। ছাত্রদের দাবী, অধিকার, সমস্যা নিরসনে বাকসু অত্যাবশ্যকীয়। ছাত্রবান্ধব আওয়ামীপ্রান আমাদের মাননীয় ভিসি স্যার আমাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে শুধু গবেষনা নয় অন্যান্য সবদিকেই বাকৃবিকে দেশসেরা করে তুলবেন ইনশাল্লাহ্।

বাকৃবির আরেকজন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী অরণ্য সাদেকুর রহমান বলেন, দৈনন্দিন কাজে আমাদের যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে তা সমাধানের জন্য সামান্য কিছু সিস্টেমিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিভিন্ন সময় বাকৃবি ক্যাম্পাস থেকে সাইকেল চুরি, বাইক রেস, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাফেরা এসব কিছু বিষয় সমাধানে প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আইডি অনুযায়ী প্রতিটি সাইকেলের একটি নাম্বরিং ব্যাবস্থা চালু করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় ভালো মানের সিসি ক্যামেরা লাগানো এবং চেকিং করে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া, ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে হলের প্রতিটি ব্লকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়াইফাই লাইন দেওয়া সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা টাকা দিয়ে রুমে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিবে। হলের ডাইনিংয়ে মান সম্মত খাবারের ব্যাবস্থা করা, না হলে প্রতি হলে হিটারের জন্য অনুমতি দেওয়া। হতাশার মোড়ে নৌকা ভাড়ায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে টাকার পরিমান নির্দিষ্ট করে দেওয়া। নদীর পাড়ে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদার করা। অডিটোরিয়ামের মুক্তম টি স্থানান্তর করে হেলিপ্যাডের সামনে বড় করে দিলে ছোট প্রোগ্রামের জন্য টাকা দিয়ে ভাড়া করে অনুষ্ঠান করতে হবে না। প্রোগ্রাম করার জন্য অডিটোরিয়ামের ভাড়া কমানোর ব্যাবস্থা করা। বাকৃবির ইশা খাঁ হল সংলগ্ন লেকের পাশে শিক্ষার্থীদের জন্য বসার বে করে দেওয়া। উপরোক্ত বিষয়গুলো খুব বড় বিষয় নয় এই ছোট ছোট কাজগুলো করে দিলে শিক্ষার্থীদের দাবি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করি মাননীয় উপাচার্যের কাছে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর