জমি নিয়ে বিরোধে ট্রলি চালককে হত্যা, আটক ৩

জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ট্রলি চালককে দু’ হাত ও দু’ পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে তার প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ পুলিশ তিন নারীকে আটক করেছে।
নিহতের নাম আলফাজ গাজী (৩০)। তিনি কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়িয়া গ্রামের শাহাদাৎ গাজীর ছেলে।

নিহতের চাচা ইনছান গাজী বলেন, তার দাদা কুমুদ্দিন গাজীর ১২ বিঘা জমি ছিল। তার ছিল ছয় ছেলে ও এক মেয়ে। ১৯৯০ সাল এটেসস্টশনের সময় গোলাপ গাজী সকল জমি তার নামে কৌশলে রেকর্ড করে নিজের নাম। পরে সে ওই জমি তঘিড়ি করে বিক্রি করে পাঁচ ছেলে নাজমুল, ছলেমান, ছাপ্পান, মোশাররফ ও আশরাফকে মালয়েশিয়ায় পাঠায়। বর্তমান তারা অনেক ধন সম্পদের মালিক। জমি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনিসহ তার কয়েকজন ভাই বাদি হয়ে কলারোয়া সহকারি জজ আদালতে গোলাপ গাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। গোলাপ গাজীও একই আদালতে পাল্টা মামলা করেন।

আদালত মামলা থাকার পরেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম দু’ পক্ষের দু’ আইনজীবীকে নিয়ে শালিস করেন। শালিস গোলাপ গাজীকে ১০ বিঘা জমি ফিরিয়ে দিতে বলা হয়। নিয়ম বহির্ভুতভাবে রেকর্ড করে নেওয়ার পর বিক্রি করা ১২ বিঘার মধ্যে ১০ বিঘা জমি ইনছান, শাহাদাৎসহ তাদের পাঁচ ভাইয়ের পাওনা হয়। আদালতের রায় বিপক্ষে যাওয়ায় ভাই শাহাদাৎ গাজীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে গোলাপ গাজীর ছেলে ও স্বজনরা। পরবর্তীতে গোলাপ গাজীর কাছ থেকে কেনা জমির মালিকদের কাছ থেকে তারা পাঁচ বিঘা জমি ফিরিয়ে নিতে সমর্থ হলেও বাকী পাঁচ বিঘা নিয়ে আজো জজ কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। চার বছর আগে শাহাদাৎ গাজী মারা যান।

ইনছান গাজী আরো জানান, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে মেঝ ভাই আশরাফ গাজীকে বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে গোলাপ গাজীর ছেলে ও স্বজনরা। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে ছলেমান ও ইসমাইলসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। চারজন জামিনে মুক্তি পেলেও ছলেমান ও ইসমাইল জামিন নেয়নি। তারা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়িয়ে আলফাজকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। চলতি মাসের প্রথম দিকে ছলেমান ও ইসমাইল ভাড়া করা লোক দিয়ে আলফাজকে মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে মেরে ফেলতে চায়। বিষয়টি জানতে পেরে আলফাজ কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করে।

শার্মিন খাতুন জানান, মঙ্গলবার বিকেল সোনাবাড়িয়া বাজারে তার স্বামী আলফাজকে জমি ফিরিয়ে নেওয়া ও চলমান হত্যা চেষ্টা মামলা নিয়ে বিরোধ বাঁধে গোলাপ গাজীর ছেলে গণি গাজী, ইসমাইল গাজী, ফয়সাল গাজী ও সলেমানের ছেলে নাজমুলের সঙ্গে। রাত ৮টার দিকে আলফাজ বাড়ির বারান্দায় বসে ছিল। এ সময় গণি, ফয়সাল, নাজমুলও ইসমাইলসহ ১০/১২ জন তাদের বাড়িতে এস হামলা করে আলফাজের উপর। তারা আলফাজের ঘাড়ে একটি দায়ের কোপ মারলে সে জীবন বাঁচাতে ঘরের মধ্যে পালায়। সেখান থেকে টেনে হিঁচড়ে বারান্দায় এনে আলফাজের দু’ হাত ও দু’ পায়ের রগ কেটে দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায় হামলাকারিরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলফাজকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত ১২টার দিকে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুবর রহমান তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শার্মিন খাতুন বলেন, তার স্বামীকে হত্যার ঘটনার স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরল ইসলাম ও আনারল ইসলামের হাত রয়েছে। নেপথ্য থেকে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইসমাইল গাজীর ০১৭৯১-৬২৪৩৬২ নং মোবাইল ফোন যোগাযাগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইউপি সদস্য নুরল ইসলাম বলেন, চাচা ভাইপোর জমি নিয়ে বিরোধ। এর সঙ্গে তার কোন সম্পক্ততা নেই।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আলফাজকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে হার্টবিট দেখতে দেখতেই সে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। ধারালো অস্ত্রের কোপ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে আলফাজের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি।

কলারায়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মূনীর-উল-গীয়াস সাংবাদিকদের বলেন, চাচাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আলফাজকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গণি গাজীর মা মালেকা, স্ত্রী বিউটি ও ছলেমানের স্ত্রী খালেদা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর