রিক্সা চালক বাবাকে বাঁচাতে মেয়ের আকুতি!

বাবা আমাদের একমাত্র উপার্জন খম ব্যক্তি। সেই বাবা কয়েক মাস যাবত গ্যাং রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ সয্যাসয়ী। আমাদের টাকা-পয়সা নাই, ডাক্তার দেখাতে পারছি না। আমরা চার বোন এক ভাই। বোনেরা অন্যের বাসায় কাজ করে কোনমতে ডাল ভাত খেয়ে বেচে আছি। অস্রুশিক্ত নয়নে কথা গুলো বলছিলো রিক্সাচালক আলম মুন্সির মেয়ে শিউলি।

বায়ান্নউর্দ্ধো রিকশা চালক আলম মুন্সি বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের বেডের কাছে যেতেই দুই চোখে শুধু পানি টলমল করছে কিন্তু ঠিকমত কথাও বলতে পারছে না। মেয়ে শিউলি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বাবা ২০ বছর যাবৎ শহরে রিক্সা চালিয়েছেন। এক বছর আগে তাদের মা মারাগেছে। রিক্সা চালিয়ে ধার কর্জ করে তিন বোনকে বিবাহ দিয়েছে রিক্সা বাবা। এরপরে ২০১৫ সালে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়। ধার কর্জ করে চিকিৎসা করে মুক্তি পায় সে। সুস্থ হবার পরে আবারও সংসার চালাতে রিক্সার হ্যান্ডেল ধরে ও প্যাডেল পা দেয়। শুরু হয় আয় তখন যা আয় হতে তা দিয়ে দু’বেলা ভাত খেয়ে কোনমতে জীবন যাপন করছিলো।

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে কোন একদিন রিক্সা চালাতে গিয়ে তার পা’য় জখম হয়। অর্থাঅভাবে চিকিৎসা না করানোর ফলে গ্যাং রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুটি পা ও বাম হাতের কয়েকটি আঙুল পচে গেছে।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক সেলিম মাতুব্বর জানান, আলমের যে অবস্থা তাতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল সরদার বলেন, আমাদের সল্প সহযোগিতা দিয়ে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আমাদের সংগ্রহীত অর্থও শেষ পর্যায়ে। আলমের চিকিৎসায় সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে গরীব রিকশা চালকের জীবন হয়তো বেচে যাবে। রিকশা চালক আলমকে সহযোগিতা করতে তার ছেলে (০১৯২৭৬৬৪৫১৩)। ##

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর