“খায় দায় জব্বর মোটা হয় মনসুর”

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে নেয়া হচ্ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে তিন ঘণ্টা আটকে রাখে শিমুলিয়া ঘাটের ফেরি কর্তৃপক্ষ। কারণ ‘ভিআইপি’ আসবেন।যার কারণে অপেক্ষা। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সচিব আসার পর ছাড়া হয় ফেরি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তিতাসের।

তিতাসের এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দায়ীদের বিচারের জোর দাবি উঠেছে।

ভিআইপিদের জন্য যে শুধু মাত্র তিতাস ঘোষ বলি হয়েছেন তা কিন্তু নয়।এরকম নিয়মিতই হচ্ছে।সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা নিয়ে ফেসবুকে পেজে একটি স্ট্যটাসি দিয়েছেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। পাঠকদের জন্য তা হুবুহু তুলে ধরা হল-

‘পদ্মা পার হয়ে যাদেরকে ওপাড়ে যেতে হয় তাদের কাছে ফেরিঘাট এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। যদিও ফেরিঘাট নিয়ে অনেক গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে কিন্তু পারাপারকারী যাত্রীদের কাছে এই অভিজ্ঞতা এতোটাই চরম ও ভয়ংকর যে, প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখেন, একদিন এই ভয়াবহতা থাকবে না, মাত্র ১০/১৫ মিনিটে গাড়িতে বসেই পদ্মা পার হওয়া যাবে। এই ঘাটে প্রায়শঃই সাধারণ যাত্রীকে অপেক্ষায় থাকতে হয় ফেরির, যদিও ফেরি ঘাটেই ভিড়ে রয়েছে দেখা যায় কিন্তু সমস্যা কি?

কোনো একজন ক্ষমতাবান আসবেন, তার জন্য অপেক্ষা করছেন ফেরি-মহাশয়। এই সময় ফেরি-কর্তৃপক্ষ কোথায় যেনো গায়েব হয়ে যান। আবার ঈদে-চান্দে যখন মানুষ বাড়ি ফেরে তখন এই ঘাটে যে বিশাল যানজট তৈরি হয় তার মধ্যেও দেখা যায় কারো কারো গাড়ি হুশ করে বেরিয়ে গিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যায়, এসব গাড়ি থেকে নেমে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিআইপি কেবিনে বসে চা-পানি খান তারা, ততোক্ষণে বাইরে মারধোর চলছে, কে আগে উঠবে, কীভাবে উঠবে।

মজার ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, এই যারা ফেরি থামিয়ে রেখে কিংবা লাইনে না দাঁড়িয়ে ফেরিতে ওঠেন তাদের বেশিরভাগই সরকারী কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা এবং এমপি মহোদয়। মন্ত্রীদের জন্য ফেরি এমনিতেই নির্দিষ্ট থাকে আর আজকালতো মন্ত্রীদের অনেকেই হেলিকপ্টারে করে যাওয়া-আসা করেন।

যে সরকারী কর্মকর্তার জন্য ফেরির অপেক্ষা করার কারণে এক আহত কিশোরের প্রাণ গেলো তাকে আসলে কোনো শাস্তির আওতায় আনা যাবে না, কারণ সরকারী কাজেই হয়তো তাকে ঢাকায় দ্রুত আসতে হবে এই মর্মে বয়ান দিয়ে তিনি বেঁচে যাবেন।

রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে সামান্য অসুবিধে হয় কারণ তাদেরকে ভোটের সময় হলেও জনগণের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়, ফলে তারা একেবারে ভয়হীন নন জনগণকে কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “খায় দায় জব্বর মোটা হয় মনসুর” — এদেশের অবস্থাও অনেকটা তাই, প্রশাসনের কাছে রাষ্ট্রকে এতো বেশি মূল্যে রাষ্ট্রটি ইজারা দেওয়া হয়েছে যে, এখন তার সবটুকু দায় শোধ করতে হচ্ছে জনগণকে। কখনও কখনও সে দায় জীবন দিয়েই শোধ করতে হয়।

(লেখক, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ফেসবুক থেকে নেয়া)

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর