২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মাঠ থেকেই চিরবিদায় নিলেন ফুটবল পাগল ‘সরকার জি’

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮

মাঠ থেকেই চিরবিদায় নিলেন ফুটবল পাগল ‘সরকার জি’

পুরান ঢাকাসহ ফুটবল অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ আব্বাসউদ্দিন ওরফে ‘সরকার জি’ আর নেই। শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ফুটবল পাগল মানুষটি বলতে গেলে ফুটবল মাঠ থেকেই চিরবিদায় নিলেন।

শুক্রবার বিকেলে আজিমপুর নতুন পল্টন লাইন ইরাকি কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে উত্তরণ যুব সংসদ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি খেলায় রেফরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ‘সরকার জি’। খেলা পরিচালনাকালীন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সারা মাঠ ছুটে বেরিয়েছেন। ফাউল হলেই বাঁশি বাজিয়ে ছুটে গিয়ে খেলোয়ারকে কখনও সতর্ক করেছেন আবার কখনও বা হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন। খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরণ যুব সংসদের ক্লাব ঘরে গিয়ে চেয়ারে বসে মাগরিবের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই তিনি শরীর এলিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত ক্লাব সদস্যরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যু সংবাদে পুরান ঢাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফুটবল পাগল এ মানুষটির ফুটবল মাঠ থেকেই চিরবিদায়ের এ সংবাদটি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সরকার জি ফুটবল অঙ্গনে অতি পরিচিত এক মুখ। ৮০-এর দশকে নিজে কামাল স্পোর্টিং ও লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবে ফুটবল খেলেছেন।

বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পায়ে আঘাত পেয়ে খেলা ছাড়তে বাধ্য হন। সোনালী অতীত ক্লাবের মোহাম্মদ মালার স্নেহধন্য সরকার জি পাওনিয়ার, তৃতীয় ও দ্বিতীয় বিভাগে কোচ ও সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফুটবলকে ভীষণ ভালবাসতেন তিনি। পুরান ঢাকার কোনো পাড়া-মহল্লায় ফুটবল টুর্নামেন্ট হলেই রেফারি হিসেবে ডাক পড়তো তার। পাতলা লিকলিকে দেহ নিয়ে ফুটবল মাঠে ছুটে বেড়াতেন। কোনো দলের খেলোয়াড় ফাউল করলেই দ্রুত গতিতে এমনভাবে দৌড়ে ছুটে যেতেন সে দৃশ্য দেখে খেলোয়াড়দের পিলে চমকে উঠতো আর দর্শকরা হেসে ফেলতেন।

সাবেক জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় তার অধীনে প্র্যাকটিস শুরু করে পরবর্তীতে ঢাকার প্রথম বিভাগসহ দেশে বিদেশে লিগ ও টুর্নামেন্ট খেলেছেন।

সরকার জি’র কাছে একসময় ফুটবল প্র্যাকটিস করেছেন এবং শুক্রবার বিকেলে টুর্নামেন্টের খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন এমন একজন খেলোয়াড় হলেন মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘বিকেলে সুস্থ দেহে ফুটবল পাগল যে মানুষটি সারা মাঠে দৌড়ে রেফারির দায়িত্ব পালন করলেন তার এমন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। দেখা হলেই একগাল হেসে জিজ্ঞাসা করতেন ‘কিরে কেমন আছিস’। এখন থেকে এমন ডাক আর শুনতে পাব না।’

সরকারজি’র কাছে একসময় ফুটবল প্র্যাকটিস করেছেন ও পরবর্তীতে ঢাকা মোহামেডানে গোলকিপার হিসেবে খেলেছেন শওকত হোসেন। এই গোলকিপার বলেন, ‘উত্তরণ যুব সংসদের যেকোনো টুর্নামেন্ট হলেই সরকার জি’র ডাক পড়তো। তিনি পাওনিয়ারে উত্তরণ যুব সংসদের দীর্ঘদিন কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।’

কোথাও কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট হলে কখনও খেলা পরিচালনা করতে অনীহা প্রকাশ করতেন না ‘সরকার জি’। অবশেষে মাঠ থেকেই চিরবিদায় নিতে হলো ফুটবল পাগল এই মানুষটির।

শনিবার (১০ নভেম্বর) বাদ জোহর চকবাজার শাহী মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।