সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের।ময়দানি লড়াইয়ে টাইগারদের এমন নির্বিষ পারফরম্যন্স দেখে কে বলবে মাঠে লড়ছে বাংলাদেশ।সেই বিশ্বকাপ থেকে যেন দাঁত ভেঙে গেছে বাঘের।বলে ওদের নেই দাড়, ব্যাটেও নেই বুম বুম শব্দ আর ফিল্ডিং তো হচ্ছে যা ইচ্ছে তাই।বিশ্বমঞ্চে সবার নজর কেড়েছেন সাকিব।সঙ্গে ডেউ তুলেছেন লিলটল মাস্টার মুশিফিক।এখনও সেই ধারা আকড়ে ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিন্স অব বগুড়া।
বিশ্বকাপে একরাশ হতাশা নিয়ে ওরা দেশে ফিরেছে।অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।এমন বিশ্বাসই টাইগার ভক্তদের।কিন্তু মাঠে আর তার দেকা মিলল কই?
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ম্যাচে খুব বাজেভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে গতকাল প্রত্যয় ছিল পরিস্থিতি পাল্টানোর। টসটাও আসে নিজেদের পক্ষে। তবুও পারলেন না সফরকারীরা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা। সতীর্থদের আশা-যাওয়ার মিছিলে একাই লড়াই করলেন মুশফিকুর রহিম। খেললেন ৯৮ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। তাতে নির্ধারিত ওভারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
এদিন ৮৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। মাঠে নেমেই আট রান নিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে প্রবেশ করেন ছয় হাজারি ক্লাবে। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরি। বাকিদের আশা-যাওয়ার মিছিলে শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে লড়াই করেন একা। তাতে নির্ধারিত ওভারে আট উইকেটে লঙ্কানদের সামনে ২৩৯ রানের লক্ষ্য রাখতে পারে বাংলাদেশ। ইনিংস শেষে ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ১১০ বলে তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয় বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কা দিয়ে।
তবে এদিন সেঞ্চুরিটা নিজেই হাত ছাড়া করেন মুশি।এমনটা বললে অবশ্যই ভুল হবে।মুশির ব্যক্তিগত যখন ৯৭ রান আর ইনিংসের তখন ৪৯:৪ ওভার।ঠিক ওই সময় ব্যাট হাতে লঙ্কান বোলারকে মোকাবেলা করছেন সাবেক ক্যাপ্টেন।অপর প্রান্তে মোস্তাফিজ।সবার ধারণা ছিলো এই দুই বলে হয়ত একটা বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করবেন তিনি।সবাই এমনটাই করে থাকেন।কিন্তু না ইনি মুশফিক।সবার যান না।হতচকিয়ে দিলেন ক্রিকেটপ্রেমীদের।শেষ ওভারে পঞ্চম বলে ব্যাটে-বলে সংযোগটা ভালো হয়নি।কোন ভাবে ব্যাট লাগিয়ে নিয়ে নিলেন ১ রান।মেস বল মোকাবেলা করবেন মোস্তাফিজুর রহমান। সেটি মোস্তাফিজ মোকেবেলা করে ২ রান তুললেন।
অথচ আগের বলে রান না নিলে এমন কি আর হত।কিন্তু মুশি নিজের সেঞ্চুরি বিসর্জন দিয়ে দলের জন্য ১ রান তুলে নিলেন।যা অবাক করেছে ধারা ভাষ্যে নিযুক্ত থাকা ব্যক্তিদের।কারণ ১ রান না নিয়ে পরের বলটি মোকাবেলা করলে হয়ত সেঞ্চুরির দেখা পেতেন মুশফিক।কিন্তু লিটল মাস্টার চিন্তা ছিলো যদি পরের বলে রান-ই না পান। তাই তিনি শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে দলীয় স্কোরে ১ রান যুক্ত করেন।আর প্রমাণ করলেন, দলের জন্য এক রান, ব্যক্তির সেঞ্চুরির ছেয়েও মূল্যবান
বার্তাবাজার/এএস