২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

পালানোর পথ খুঁজছে সরকার: জাফরুল্লাহ

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮

পালানোর পথ খুঁজছে সরকার: জাফরুল্লাহ

সরকার পালাবার পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এই সরকারের ভিত হলো পুলিশ, ঘুষ, অনাচার ও দুর্নীতি, গায়েবী মামলা আর গ্রেপ্তার। কিন্তু তাদের ভিত নড়ে গেছে। তারা এখন পালানোর পথ খুঁজছে।’

শুক্রবার রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বক্তব্য রাখাকালে তিনি একথা বলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর মাদ্রাসা মাঠে এই জনসভা শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আজকে বাস বন্ধ, যোগাযোগ বন্ধ, তারপরও আপনারা হেঁটে এসেছেন। আমরা আআেপনারা আন্দোলনে আছেন, আপনারা মাঠে থাকেন। আপনাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এটি চতুর্থ জনসভা। এর আগে ৬ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তার আগে ২৪ অক্টোবর সিলেটে ও ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে জনসভা করে ডা. কামাল হোসেনে নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য আজকের সভায় উপস্থিত হতে পারেননি প্রধান অতিথি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

জনসভায় জাফরুল্লাহ বলেন, এবার আপনারা জয়ী হবেন, জয়ী হলে কি হবে? কৃষক শ্রমিকদের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কৃষকের পণ্যের মূল্য নেই, শ্রমিকের শ্রমের মূল্য নেই। এসব প্রতিষ্ঠিত হবে।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘এখানে আজ যারা এসেছেন সবাইকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সম্ভব নয়। তাহলে আপনারা মাঠে থাকেন। আপনাদের বিজয় নিশ্চিত। সরকার যত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করতে হবে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে একতরফা নির্বাচনী বৈতরণী পার করা সম্ভব নয়। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচাল করতে চায়না। ৭ দফা দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত দেশে কোন নির্বাচন হবে না। তফসীল বদলান, আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি সে জন্য ফাঁদ পাতছেন। তা হতে দেয়া হবে না।

রাজশাহীর জনসভায় বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজনকে আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘পুলিশ গাড়ি আটকে দিচ্ছে। নাটোর, বগুড়া, রংপুরের গাড়ি আসতে দেওয়া হয়নি। প্রতিহিংসা বন্ধ করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। ঐক্যফ্রন্ট যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সরকার সে ফাঁদ পেতেছেন, তা হবে না।’

এর আগে বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন করতে দেয়া হবেনা। সাত দফা দাবী মেনে না নেয়া পর্যন্ত কেউ নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করবেন না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের সাধারন সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘দেশকে একটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে না চাইলে সাত দফা মেনে নিন।’ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে সাত দফার মূল দাবিগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রোডমার্চ করে রাজশাহীর সমাবেশে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। পরে ওই কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল জনসভা করার ঘোষণা দেন।

আজকের জনসভায় আরও উপস্থিত আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।