শিক্ষার বিশ্বায়ন ও আমাদের অবস্থান

“দেশে বিষয়ভিত্তিক গবেষণা এবং সে অনুযায়ি পেশা নির্ধারেনর সুযোগ খুবই কম, যা শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান ও গবেষণা বিমুখ করে তুলছে।”

“বৈশ্বিক ” Pull” ফ্যাক্টরে আমরা মেধাগুলোকে কতটা ধরে রেখে কাজে লাগাতে পারবো সেটা সম্পূর্নটাই নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার আধুনিকীকরন এবং গবেষণা সংশ্লিষ্টতার উপর।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থী মাহমুদা আশরাফি’র গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল-

মাহমুদা আশরাফি: উচ্চশিক্ষা এখন ভীষণ ভীড়নিয়ে ছুটে চলা ট্রেন!আপনি ধরতে পারলেন না তো, মিস করলেন নিজ গন্তব্য!

সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্যা ইকোনমিস্ট উচ্চশিক্ষার পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।উচ্চশিক্ষার পরিবর্তন ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কিভাবে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তার উদাহরন রয়েছে এই প্রতিবেদনে।বিশ্বায়ন ঘটছে উচ্চশিক্ষার,বিশ্ববিদ্যালয় এখন শুধুমাত্র সনদ বিতরনের কেন্দ্র হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সমারোহে সাজানো এক “গিফট কর্নার”, যেখান হতে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীকে উপহার দিবে নতুন উদ্ভাবন,আর সেই উপহারের প্রভাবে বিস্মিত হবে পুরো পৃথিবী!
কিন্তু কি হচ্ছে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায়!দেশের প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে না গবেষণা,চলছে মুখস্থনির্ভরতা!সিমাগো ইন্টারন্যাশনাল রাংঙ্কিং যখন বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রকাশ করলো তখন গুনে গুনে ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও নেই আমরা!প্রাচ্যর অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৬৯২ তম!কৃষি শিক্ষা ও গবেষনার আতুরঘর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান ৭৩৩তম!যেখানে নাইজেরিয়ার মতো দেশ ঘোষনা দিয়েছে টপ ২০০ তে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার,সেখানে আমরা কি এক হাজারে আসতে পারলেই সন্তুষ্ট!দেশের উচ্চশিক্ষার বেহাল দশায় বিমুখ হয়ে পাশ্চাত্য পাড়ি জমাচ্ছে মেধা।এ প্রসঙ্গে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষারত একজন শিক্ষার্থী বলেন,” ওয়ার্ল্ড এডুকেশন সেক্টরে আমরা আমজনতা,এডুকেশনাল লিডারশীপ আমাদের অনিশ্চিত কারন মুখস্থনির্ভরতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা ফ্রেশ মেধাগুলোতে মরিচা ধরিয়ে দিচ্ছে।

দেশে বিষয়ভিত্তিক গবেষণা এবং সে অনুযায়ি পেশা নির্ধারেনর সুযোগ খুবই কম,যা শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান ও গবেষণা বিমুখ করে তুলছে।তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর নীতি নির্ধারনগত দূর্বলতা তো আছেই।সব মিলিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পারছি না আমরা”।

ওয়ার্ল্ড টপ চার্টে অবস্থানের জন্য যে আটটি বিষয়ে নজর দেয় প্রয়োজন সে বিষয়গুলোর চিত্র ভীষণ করুন।আমাদের কিছু প্রকাশনা থাকলেও তার গুনগত মান নেই,আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেই বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ।স্পেশেলাইজেন ইনডেক্স,এক্সিলেন্স হার,সায়েন্টিফিক লিডারশিপ সব ক্ষেত্রেই দূর্লতা দৃষ্টিগোচর। তাছাড়া হচ্ছেনা জ্ঞানের আন্তর্জাতিকীকরন বরং ব্রেইন ড্রেনে চলে যাচ্ছে সুযোগ ও সুবিধার অভাবে আমাদের মেধাসম্পদগুলো।বৈজ্ঞানিক গবেষনার ক্ষেত্রে স্বল্প বাজেটের কারনে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক এবং গবেষনাগার তৈরি হচ্ছেনা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যার ফলে কোনও ভাবেই আমরা গবেষনায় উৎকর্ষ সাধন করতে পারছি না।আর গবেষনায় পশ্চাৎপদতা বৈশ্বিক অবস্থানে পিছিয়ে পড়ার বড় একটা কারন।তবে আশার বিষয় হলো এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সম্প্রতি বলেছেন যে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনার উপর বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।”যেটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিলো মাত্র ১৪ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের পরিমাণ হলো ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মোট বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫.০৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিলো ৬.৬২ শতাংশ।২০১৭-১৮ এর তুলনায় ২০১৮-১৯ এ গবেষণাক্ষেত্রে বাজেট বাড়লেও পূনরায় কমেছে চলতি বাছর,আশা করি পরের বছর গবেষনা ক্ষেত্রে আরো বাজেট বাড়াবে ঢকা বিশ্ববিদ্যালয়।আর দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গবেষনায় ঠিক কতটা গুরত্ব দিবে তার উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা।বৈশ্বিক ” Pull” ফ্যাক্টরে আমরা মেধাগুলোকে কতটা ধরে রেখে কাজে লাগাতে পারবো সেটা সম্পূর্নটাই নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার আধুনিকীকরন এবং গবেষনা সংশ্লিষ্টতার উপর।

এখন সময় নজর দেয়ার যে আমরা দেশের গন্ডিতে নিজেরা নিজেদের মধ্যে ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা করেই শেষ করবো আমাদের শিক্ষা সর্বোচ্চবিদ্যাপিঠ,নাকি বিশ্বায়নের ধারা ও উচ্চশিক্ষার বিবর্তনের জন্য কি সত্যিই কোনও ভাবনা ভাববে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর নীতিনির্ধারকরা? প্রশ্ন থেকে যায়।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর