২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ঘরোয়াতে হিট, আন্তর্জাতিকে ব্যর্থ

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮

ঘরোয়াতে হিট, আন্তর্জাতিকে ব্যর্থ

ক্রিকেটার তৈরির প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঘরোয়া ক্রিকেটকে। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত সৈনিকদের জাতীয় দলে অভিষেক ঘটানো হয়। ক্রিকেটে এভাবেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পালা বদল ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশের এই পালা বদলের স্বাভাবিক পথ যেন বর্তমানে থমকে রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরের পর বছর পারফর্ম করেও সুযোগতো দূরে থাক বিবেচনাতেও আসছেন না তাঁরা।

দলের সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটার এবং বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বাকি জায়গা গুলোতে স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না বিসিবি। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়মিত বোলিংয়ে পারফর্ম করলেও ব্যাটিংয়ে এখনো ধারাবাহিক নন। আবার নিয়মিতদের কেউ একজন দলের বাইরে থাকলে তাঁর বিকল্প খেলোয়াড় পেতে দারুণভাবে হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচিকরা। অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে যারাই দলে সুযোগ পাচ্ছেন তারাই নিজেদের প্রমানে ব্যর্থ হচ্ছেন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ফজলে রাব্বি, নাজমুল হোসেন শান্ত কিংবা লিটন দাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি তরুণ যে কয়জন দলে সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের সবার ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য। লিগের ফর্ম কেউই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খিড়কি পর্যন্ত টেনে নিতে পারছে না।

লিগে ভালো করার পরও জাতীয় দলে তাঁদের স্থায়িত্ব হচ্ছে বড়জোর এক বা দুই ম্যাচ কিংবা এক দুই সিরিজ। ফজলে রাব্বি, সৈকত উৎকৃষ্ট উদাহরণ। যারা এক দুই সিরিজ খেলেই বাদ পড়েছেন এদের সবাই ঢাকা লীগ, বিসিএলের কিংবা এনসিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করেই দলে সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরই যেন কোন এক জাদুকরের জাদুতে সব পারফরম্যান্স হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। দুই জায়গায় খেলার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে একথা সত্যি। কিন্তু একই খেলোয়াড়ের এতো পার্থক্য হওয়ার কথা নয়।

প্রথম কথা হলো আমাদের ঘরোয়া লিগের খেলাগুলো কখনোই মানসম্মত ছিল না। নিম্ন মানের উইকেটের পাশাপাশি স্পিন সহায়ক পিচেই দিনের পর দিন খেলে যাচ্ছে ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়রা। সব মিলিয়ে না উইকেট, না খেলার মাঠ আর না প্রতিযোগিতার বিচারে কোনো দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগ। যার দরুন ঘরোয়া লিগের ম্যাড়ম্যাড়ে টুর্নামেন্টগুলোতে পারফর্ম করার পরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে সুযোগ পেয়েও নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এছাড়া দেশের জাতীয় দল নির্বাচন প্রক্রিয়াটাও একটা ভুতুড়ে পদ্ধতি। কখন কাকে কোন বিবেচনায় এবং কি কারণে দলে জায়গা দেওয়া হচ্ছে তাঁর সঠিক কারণ কেউ সঠিকভাবে দিতে পারে না। টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডেতে ভালো খেললে টেস্টে নামিয়ে দেওয়া হয়। অথবা অনেক সময় ওয়ানডে দলে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে টেস্টে নামিয়ে দেওয়া হয় রানে ফেরার জন্য।

যে কোনো দেশের ক্রিকেটে উন্নতির জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। ঘরোয়া ক্রিকেট স্ট্রাকচার যাদের যত উন্নত সেই দেশ ক্রিকেটে ততটাই উন্নতি করতে পারবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ৬-৭ বছর ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করার পরেই জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছে। এমন কি ঘরোয়া লিগে ৫০ এর ওপর গড় নিয়েও জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় পড়েননা এমন খেলোয়াড়দের সংখ্যাও নেহাত কম নয় ভারতে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। একে তো ঘরোয়া লিগের মান তেমন ভালো নয়। তার ওপর যদি ঘরোয়া লিগে ২-১ মৌসুম ভালো করার পর দলে সুযোগ দেওয়া হয় তাঁদের থেকে কিবা আসা করতে পারে দর্শকরা। আবার এমনও আছে ঘরোয়া লিগে টানা ৪-৫ বছর ফর্মে থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অজানা কারণে তাঁদেরকে বিবেচনায় আনেন না বোর্ড কর্তৃপক্ষ। — বাংলা ইনসাইডার