১৯, নভেম্বর, ২০১৮, সোমবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘থাগস অব হিন্দুস্তান’, ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮

‘থাগস অব হিন্দুস্তান’, ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি

উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেল বলিউডের আলোচিত ছবি ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’। আজ ৮ নভেম্বর সর্বোচ্চ সংখ্যক হলে মুক্তি পেয়ে ইতিমধ্যে রেকর্ড গড়েছে ছবিটি। হিন্দি, তামিল ও তেলেগু ভাষায় ভারতের ৫ হাজার এবং বিদেশে ২ হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মোট ৭ হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে ছবিটি ভারতীয় ছবির ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছে। আবার ছবিটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে। বলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা মনে করেন প্রথম দিনই ৫০ কোটি রুপি আয় করবে ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’। সেই ফলাফল জানতে অন্তত আগামী দিন শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তার আগে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা ছবিটি দেখে কি মতামত দিয়েছেন, সেদিকে চোখ রাখা যাক-

ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী

‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ পরিচালনা করেছেন ‘ধুম ৩’ খ্যাত পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্য। ছবিতে প্রধান থাগ অর্থাৎ ডাকাত সর্দার ‘খোদাবক্স আজাদ’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। স্বল্প সময়ের ডাকাত ফিরিঙ্গি মাল্লা চরিত্রে আমির খান। নর্তকী সুরাইয়া চরিত্রে ক্যাটরিনা কাইফ, তীরোন্দাজ জাফিরা চরিত্রে ফাতিমা সানা শেখ এবং নিষ্ঠুর ব্রিটিশ অফিসার জন ক্লাইভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইংরেজ অভিনেতা লয়েড ওয়েন। এছাড়া ভারতের ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ রনিত রায়কেও দেখা গেছে ছবিতে।

কাহিনী

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৭৫ সালের ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপট দেখানো থাগস অব হিন্দুস্তান ছবিতে। ঠিক যে সময়ে ক্লাইভ লয়েড রাজা মির্জার সাম্রাজ্য দখল করে। একজন বাবার হত্যার বদলা নিতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে মূলত ছবির গল্প। খুব সাধারণ দৃষ্টিতে গতানুগতিক প্রতিশোধের কাহিনী। প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকেন রাজকুমারী জাফিরা (ফতিমা সানা শেখ)। ঘটনাক্রমে জাফিরার পরিচয় হয় সে সময়ের ডাকাত সর্দার এবং বিপ্লবী খুদাবক্স আজাদ (অমিতাভ বচ্চন) এর সঙ্গে। আজাদের কাছে তিনি তীর/ধনুক চালানোর দক্ষতা অর্জন করেন। এক সময় দক্ষ তীরোন্দাজে পরিণত হন জাফিরা। কিন্তু ১১ বছর পর জাফিরা এবং আজাদের পরিচয় হয় ব্রিটিশদের গুপ্তচর ফিরিঙ্গি মাল্লার ( আমির খান) সঙ্গে। ফিরিঙ্গি খুবই ধূর্ত চরিত্রের একজন। তাঁকে মূলত পাঠানো হয় আজাদকে ধরতে। খুব কৌশলে আজাদের বাহিনীর মধ্যে ঢুকে পড়ে ফিরিঙ্গি। এক সময় তাঁদের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। এভাবেই এগিয়ে যায় ছবির গল্প।

ছবির চিত্রনাট্য বিশ্লেষণ

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘কইমই’ ছবির চিত্রনাট্যকে নব্বইয়ের দশকের গতানুগতিক কাহিনী, বাবার খুনের বদলা নেওয়ার মতো উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ব্লকবাস্টার হওয়ার মতো ছবিতে যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী চিত্রনাট্য মোটামুটি নড়বড়ে।

অভিনয়

কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্যে অমিতাভকে বেশ বিবর্ণ লাগছিল। এর জন্য অবশ্য বিগ-বি’র বয়সকে দায় দেওয়া হয়েছে। তবে ছবিতে তাঁর গুরুগম্ভীর সংলাপ প্রশংসার দাবীদার। এদিকে সবসময় আমির খানের ছবির অপেক্ষায় থাকে ভক্তরা। সেদিক থেকে বিগত কয়েক বছরের ছবিতে তাঁর অভিনয়ের তুলনায় এই ছবিতে বেশ নিষ্প্রভ ছিলেন আমির। সেদিক থেকে দুর্দান্ত অভিনয় করে আবারও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন `দঙ্গল` খ্যাত ফতিমা। এছাড়া ছবিতে ক্যাটরিনার উপস্থিতি শুধুমাত্র বাড়তি চমক ছাড়া তেমন কিছুই নয়।

নির্দেশনা/ সংগীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবির পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্য এই ছবিকে অনেকটাই তাঁর আগের ছবি ‘ধুম ৩’ এর আদলে করেছেন। সে হিসেবে পর্দায় দেখতে ভালো লাগলেও টেকনিক্যাল অনেক ত্রুটি রয়েছে। তবে ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি প্রশংসার দাবীদার। এছাড়া গোটা ছবিতে স্পেশাল ইফেক্টসের কাজ দর্শকদের মুগ্ধ করবে। খানিকটা পাইরেটস অব দ্য ক্যারেবিয়ান ছবির ধাঁচে ছবিতে ঠগীদের এই ছবিতে তুলে ধরা হলেও, ভারতীয় প্রাক স্বাধীনতা প্রেক্ষাপটে তা অনেকটা বেমানন বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে নাকি একঘেঁয়েমিতে গিয়ে ঠেকেছে ছবিটি।

ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন অজয় অতুল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আরেক সংগীত পরিচালক জন স্টুয়ার্ট আদুরি। দু’জনের প্রচেষ্টায় গোটা ছবির আবহ সংগীত বেশ প্রাসঙ্গিক এবং মোহনীয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবির ভালো-মন্দ

‘থাগস অব হিন্দুস্তান’-কে বেশ ঝকঝকে ছবির তকমা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া এর আবহ সংগীত বিশেষভাবে প্রশংসার দাবীদার। তবে ছবিতে অনেক কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হলেও কিছুটা একঘেঁয়ে।

সবশেষে দর্শক ছবিটিকে কিভাবে নিয়েছে, সেটা সপ্তাহ শেষের বক্স অফিস হিসেবেই উঠে আসবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘কইমই’ ছবিটিকে ৫ এরমধ্যে ২ এবং ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ দিয়েছে মাত্র ১।

সূত্রঃ কইমই ডট কম