যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২৮ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষিকা বৃটানি জামোরা তারই মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুজনে মিলিত হয়েছেন কখনো নিজের গাড়িতে, কখনো ক্লাসরুমে। বিষয়টি ধরা পরার পর তিনি ওই ছাত্রের পিতার কাছে অনুনয় করেন তিনি যেন বিষয়টি পুলিশে না জানান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি জামোরার। তাকে এ অপরাধে ২০ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। আখ্যায়িত করা হয়েছে সারাজীবনের জন্য সেক্স অফেন্ডার বা যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে।
বৃটানি জামোরাকে আগামী ২০ বছর বা দুই দশক অ্যারিজোনা রাজ্যের পেরিভিলে জেলেই কাটাতে হবে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।
বৃটানি জামোরা বিবাহিতা। তবু তার মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ওই শিক্ষার্থীর প্রতি আকর্ষণ জন্মে ওঠে। তিনি অ্যারিজোনার লাস ব্রিসাস একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন। সেখানেই তার শিকারে পরিণত হয় ওই বালক। প্রথমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে টেক্সট ম্যাসেজ বিনিময় থেকে। পরে তা আস্তে আস্তে যৌন সম্পর্কে রূপ নেয়। ফলে ওই ছাত্রের সঙ্গে জামোরা চারবার তার নিজের গাড়িতে এবং স্কুলের ক্লাসরুমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি ওই বালকটিকে নিজের নগ্ন ছবি ও অন্তর্বাস পরা ছবি পাঠাতেন। এর মধ্য দিয়ে তাকে উত্তেজিত করতেন। এ অভিযোগে ২০১৮ সালের মার্চে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করেছে আদালত।
বৃটানি জামোরার বিরুদ্ধে তিন দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। তা হলো একটি অপরিণত বালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, একটি শিশুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং প্রকাশ্যে যৌন আচরণ। তার বিরুদ্ধে যে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে ভাল আচরণ দেখালেও তিনি মুক্তি পাবেন না। এর অর্থ হলো, জামোরাকে অবশ্যই শাস্তির পুরো মেয়াদ জেলেই কাটাতে হবে। তখন তার বয়স হয়ে যাবে ৪৮ বা ৪৯ বছর। এরপরও জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে।
বৃটানি জামোরার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ওই ছাত্রের পিতা-মাতা। তবে তার মা আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন আদালতে। তাতে তিনি বলেছেন, বৃটানি জামোরা আমাদের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। একজন ভিক্টিমকে চিরদিনের মতো তার স্বভাবকে পাল্টে দিয়েছেন। আমার সন্তান নিরপরাধ ছিল। তার সেই নিষ্পাপবোধকে চুরি করেছেন জামোরা। আমার ছেলে ও পরিবারের প্রতি যা করেছেন তার জন্য আমি জামোরাকে ঘৃণা করি।
বার্তাবাজার/এএস