মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বেশ কড়া কথাই বললেন মালেশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ।মিয়ানমারকে উদ্দেশ্য করে দুটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হয় নাগরিকত্ব, নয় তাদেরকে নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভূখণ্ড দিতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তুর্কি সরকার নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহাথির বলেন, ‘মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে কখনই হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে গণহত্যা ও ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; যেখানে মালয়েশিয়া শুরু থেকেই এর বিরুদ্ধে।’
মালয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের এই নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক সরকারের অন্যায় আচরণ চালিয়েছে। যার বিরুদ্ধে সব সময়ই আমরা শক্ত অবস্থানে ছিলাম।’
আনাদোলু এজেন্সি’কে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বলেন, ‘দেশটিতে কোনো এক সময় অনেক রাজ্য ছিল। তবে ব্রিটিশরা তখন মিয়ানমারকে একটি রাজ্য হিসেবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা বার্মা রাজ্যে সে সময় অনেক উপজাতির বসবাস ছিল। কিন্তু এখন অবশ্যই তাদের সঙ্গে হয় সাধারণ নাগরিকদের মতো আচরণ, নয়তো তাদেরকে একটি নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভূখণ্ড দেওয়া উচিৎ।’
সাক্ষাৎকারে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহাথির বলেন, ‘আজ দেশটিতে বেশিরভাগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য স্থানীয় মুসলিমদের দায়ী করা হয়। তবে সত্যটা হলো ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনকে দখল করেছে এবং তাদের আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষার ফল এই তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ থেকে চিরতরে মুক্তি লাভের জন্য আমাদের এর প্রকৃত কারণ জানা প্রয়োজন। মালয়েশিয়াতে আমরা সন্ত্রাসীসহ সকল জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করেছি; আর এতেই দেশ থেকে একে একে সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটেছে। আমাদের ধারণা মিয়ানমারেরও উচিৎ তাই করা।’
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিশেষ আমন্ত্রণে চার দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে গত বুধবার (২৪ জুলাই) দেশটিতে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। রবিবার (২৮ জুলাই) তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বার্তাবাজার/এএস