দুই বছরে সাড়ে ৫শ দিন ক্যাম্পাসে আসেননি ভিসি !

রাষ্ট্রপতির দেয়া নিয়োগশর্ত অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

নিয়োগ প্রাপ্তির পর গত দুই বছরে প্রায় সাড়ে ৫শ’ দিন ক্যাম্পাসে আসেননি তিনি।
উপাচার্যকে অনুস্মরণ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর প্রশাসনিক ভবনে আসেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

ধারাবাহিকভাবে এই দুই কর্তা ব্যক্তির অনুপস্থিতির ফলে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন থেকে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

এতে, দীর্ঘ সেশনজটের আশংকায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত একমাস থেকে ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধ, নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাসময়ে পদোন্নতি প্রদানের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আসছে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।
তাদের কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর। ফলে, বিভাগগুলো ফাইনাল পরীক্ষাও গ্রহণ করতে পারছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় ৫৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ ও নীতিমালা চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই সময় কর্মচারীদেরকে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়।

কিন্তু, নীতিমালা প্রণয়নে কর্মচারীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং নীতিমালা কর্মচারী বান্ধব হয়নি এমন অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয় কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রতিদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল করছে কর্মচারীরা। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গত ২৪ ও ২৫ জুলাই ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
এছাড়া, ২৫ জুলাই কর্মচারীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য রংপুর তাজহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) আতিউর রহমান।

এদিকে, কর্মচারী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল হয়েছে উঠেছে ক্যাম্পাস। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বন্দ্ব ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যকে লক্ষ্য করে আক্রমনাত্বক পোস্ট দিচ্ছেন।

এতে, যেকোনো সময় অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকেই।
কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মূখপাত্র রবিউল ইসলাম জানান, তিনটি যৌক্তিক দাবিতে এক মাস ধরে আন্দোলন করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছেন না।

পরিষদের আহবায়ক মাহাবুবার রহমান বাবু বলেন, গত ২১ জুলাই ভিসি স্যার আমাদের সাথে ক্যাম্পাসের বাইরে নগরীর সার্কিট হাউসে আলোচনার জন্য বসেছিলেন। কিন্তু তিনি সাথে করে স্থানীয় সাংসদ এইচ এন আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমানকে নিয়ে আসেন। এতে আলোচনা ভেস্তে গেছে। কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব মাসুম খান বলেন, ভিসি স্যার ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল তিনিও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রশাসন ভবনে আসেন না। এক মাস ধরে ক্যাম্পাসেই (রংপুরে) আসেন না। ভিসি, রেজিস্ট্রার দুজনই ঢাকায় থাকেন। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কীভাবে আসবে।

জানাগেছে, ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ গত দুই বছরে সাড়ে ৭শ দিনের মধ্যে সাড়ে ৫শ দিনই ঢাকায় থেকেছেন। সম্প্রতি তিনি ক্যাম্পাসেই আসছেন না। রংপুরে আসলেও নগরীর সার্কিট হাউসে অবস্থান করে জরুরী কিছু ফাইল স্বাক্ষর করে চলে যান। তার অনুপস্থিতির কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা চলছেই।

এই বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি।

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর