আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:২৩, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী

দেশের ক্রিকেট নিয়ে মুখ খুললেন জয়সুরিয়া

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : মার্চ ১০, ২০১৭ , ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

জয়সুরিয়াকে হয়তো ভুলে যাননি। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের মতো তারকা ক্রিকেটারের অবসরে লঙ্কানদের প্রতিরোধে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। হারাচ্ছে পুরনো সেই জৌলুস। যদিও সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটার জয়সুরিয়ার প্রত্যাশা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ভারসাম্যপূর্ণ দলে হয়ে উঠবে শ্রীলঙ্কা। তার মতে, নতুন একটি দল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়াতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ক্রিকেট ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কার রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন সনাথ জয়সুরিয়া। ২০১০-এর আইপিএল চলাকালীনই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। মাতারা জেলার মানুষ ভালোবেসে তাকে নির্বাচিত করেন।

নির্বাচনে উপস্থিত না থেকেও মাতারা জেলায় সর্বোচ্চ ভোটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন ‘মাতারা হারিকেন’। ক্ষমতাসীন মাহিন্দ রাজাপক্ষের দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সাবেক মারকুটে এই ব্যাটসম্যান এখন রাজনীতি ছেড়ে ফের ক্রিকেটে যোগ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হয়ে। ব্যক্তিগত রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্রিকেট নিয়েই কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

২২ গজে ব্যাট হাতে অনেক ম্যাচের ভাগ্য গড়েছেন নিজ হাতে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ থেকে যারা নিয়মিত জয়সুরিয়ার ব্যাটিং দেখে এসেছেন, তাদের চোখে এখনও মাতারা হারিকেনের ঝড় ভাসবে। ব্যাট হাতে মাঠে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিতেন।

এবার নতুন করে দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন প্রধান নির্বাচকের। দায়িত্বটা তার এখন আরও বড়। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের দলের বাইরে চলে যাওয়ার পর এমনিতেই দলের অবস্থা নাজুক। এই মুহূর্তেই তার মতো একজন ক্রিকেটারের পাশে থাকা জরুরি ছিল! জয়সুরিয়া অবশ্য এই দায়িত্বটা খুব ভালো ভাবে পালন করতে চান। দুঃসময়ে চোখ রাখছেন প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খোঁজে।

নতুন একটি দল নিয়ে কাজ করাটা কতটা চ্যালেঞ্জের এমন প্রশ্নে মাতারা হারিকেনের জবাব, ‘তরুণ দলটা নিয়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার পেয়েছি। আমরা তাদের আরও সুযোগ করে দিতে চাই। আমি মনে করি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সুদিন ফিরে আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের স্থিতিশীল হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবেই।’

২০১৫ সালে প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন জয়সুরিয়া। এর এক বছর পর ২০১৬ সালের এপ্রিলে আবারো নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফিরে আসার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয়সুরিয়া বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের পুরো সফরটা অসাধারণ।

আমি খুব খুশি যে ফের ক্রিকেটে ফিরতে পেরেছি। ২০ বছর ধরে আমি লঙ্কান ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিষয়টি আমাকে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি দেয়। আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। যদি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের জন্য আরও কিছু দিতে পারি, সেটাই হবে আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।’

রাজনীতির ময়দান ঠিক কেমন ছিল এমন প্রশ্নে জয়সুরিয়া বলেছেন, ‘ক্রিকেট এবং রাজনীতি এই দুয়ের তুলনা করলে দু’জায়গাই সমান। ক্রিকেট মাঠে থাকার সময় যারা আমাকে ভালোবাসতেন, রাজনীতির মাঠেও আমাকে তারা ভালোবাসেন। তাই খুব বেশি পার্থক্য ছিল না।’