ছেলেধরা গুজবে বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই গুজব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতকেও নাজেহাল করছে।গণপিটুনি রুখতে দিশেহারা পুলিশ সদস্যরাও।
ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় মাদারিহাট-ফালাকাটা রাজ্য সড়কের শালা মণ্ডল এলাকায়। সেখানে রান্নার গ্যাসের মেরামতের কাজে আসা পূর্ব মেদিনীপুরের তিন যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে ধরে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে মাদারিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পদ্মা সেতুর জন্য মাথা লাগবে, এমন গুজব ছড়ানোর পরেই দেশে এই গণপিটুনি বেড়ে যায়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় সন্তানকে ভর্তি করাতে যাওয়া এক মাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাসনিমা বেগম রেণুকে। এই গুজব এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ছাপিয়ে ভারতেও গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরা গুজব ঝেঁকে বসেছে।
ভারতেও এই গুজবের জেরে ঘটছে একের পর গণপিটুনির ঘটনা। জুনের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার শহরের কাছে পাটকাপাড়া চা বাগানে এমন ঘটনার সূত্রপাত। এরপর কখনো কালচিনির রায়মাটাং, তো কখনো ওই ব্লকের দলসিংহপাড়া বা আলিপুরদুয়ার জংশনের মাঝেরডাবরি বাগানে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
গত সোমবারও আলিপুরদুয়ার জংশনের ভোলারডাবরি ও বীরপাড়ার দলগাঁও স্টেশনে ছেলেধরা সন্দেহে একই ব্যক্তিকে দুবার গণপিটুনি দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এবার গণপিটুনির ঘটনায় নতুন এলাকা হিসেবে জুড়ে গেল মাদারিহাটের শালামণ্ডল এলাকার নাম।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্নার গ্যাসের মেরামতের কাজ করতে এ দিন মধ্য মাদারিহাট এলাকায় যান পূর্ব মেদিনীপুরের ছয় যুবক। একটি মারুতি ভ্যানে করে সেখানে গিয়েছিলেন। সঙ্গে গাড়ির চালকও ছিলেন। আচমকাই তাদের দেখে ছেলেধরা বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন স্থানীয়রা।
কয়েক জন চিৎকারও শুরু করে দেন। বেগতিক বুঝে তারা গাড়ি নিয়ে পালাতে যান। শালামণ্ডল চৌপথীতে তাদের গাড়ি আটকে দেয় জনতা। বাকিরা পালাতে সক্ষম হলেও তিনজনকে ধরে শুরু হয় গণপিটুনি। ভাঙচুর করা হয় গাড়িটিও। খবর পেয়ে মাদারিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মারমুখী জনতার হাত থেকে বহু কষ্টে ওই তিন জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বার্তাবাজার/এএস