প্রতিদিনের মতো সকালে মাদ্রসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেন সুমাইয়া আক্তার (১৬)। গ্রামের পথ ধরেই বই-খাতা নিয়ে হেঁটে মাদরাসায় যাচ্ছিল। স্থানীয় সেরার খালের সেতুর এলাকায় পৌঁছালে ঝোঁপের আড়াল থেকে এক যুবক বের হয়ে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলায় চালিয়ে দেয় ছুরি। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চেতনা হারায় সুমাইয়া। এ সময় একই পথ ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল গোসিঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম। সুমাইয়াকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে সিয়াম। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে সুমাইয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মোবারক হোসেন জানান, রেদোয়ান ও সুমাইয়া তাদের মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে রেদোয়ান সহপাঠী সুমাইয়াকে উত্যক্ত করলে তাকে সতর্ক করা হয় এবং পারিবারিকভাবে শাসন করা হয়। এসব নিয়ে সুমাইয়া কিছুদিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ ঘটনা একাধিকবার রেদোয়ানের বাবাকেও অবহিত করা হয়। তাদের ধারণা প্রেমঘটিত বিষয় থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী জানান, প্রেমঘটিত কারণে রেদোয়ান ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ফতেহ আকরাম জানান, গলায় ভোতা অস্ত্রের আঘাতে সামান্য কেটে গেছে। এর চিকিৎসা এখানে করাই সম্ভব ছিল। তবে স্থানীয়দের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, সুমাইয়ার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের চিহ্ন রয়েছে। তবে সে শঙ্কাযুক্ত।
গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, প্রেম প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি গলা কাটা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গলা কাটার বিষয়টি নিছক গুজব। তবে কোথাও গলা কাটা সন্দেহে কাউকে আটক করা হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা করা যাবে না।
বার্তাবাজার/এএস