মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদ্রাসাছাত্র আবির হোসাইনের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার মাত্র ১০০ গজ দূরের একটি পুকুর থেকে আবিরের মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আবিরের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে।
এর আগে বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে মাদ্রাসার নিকটবর্তী ইটভাটার পাশ থেকে ওই ছাত্রের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবির হোসাইন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আলী হোসেনের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, বুধবার রাতেই খুলনা থেকে একটি বিশেষ ডুবুরি দল আসে চুয়াডাঙ্গায়। তাদের সহযোগিতায় জেলা পুলিশের একটি দল ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবিরের মাথাটি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে মাদ্রাসার নিকটবর্তী মশিউর রহমানের পুকুরের উত্তর এলাকা থেকে মাথাটি উদ্ধার হয়।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাস ছয়েক আগে আবির হোসেন (১১) ভর্তি হয়।
ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) এশার নামাজের সময় সে নিখোঁজ হয়।
পরের দিন বুধবার সকালে মাদ্রাসার নিকটবর্তী আমবাগান থেকে মাথাবিহীন আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর দিন বৃহস্পতিবার উদ্ধার হলো আবিরের মাথা।
উল্লেখ্য, আবিরের মাথা উদ্ধারের আগে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তে বলাৎকারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। খুনি এ বিকৃত কাণ্ডটি ঘটানোর পর ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে আবিরকে হত্যা করে বলে ধারণা করছি। পরে পদ্মা সেতুর গুজব কাজে লাগাতে মাথা কেটে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহের চেষ্টা করেছে খুনি।
বার্তাবাজার/এএস