প্রথমবারের সাংসদ৷তবে নয়া হলেও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানকে৷ বুধবার (২৩ জুলাই) ট্যুইট করে কেন্দ্রে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন নুসরত৷গোরক্ষার নামে নক্ষণশীল উগ্র হিন্দুরা যা করছে, তাকে জঙ্গির সঙ্গে তুল না করেছেন এই অভিনেত্রী। এদিন তিনি কবি ইকবালের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন কোনও ধর্ম একে অপরের মধ্যে হিংসা ছড়ানো শেখায় না৷ এগুলো মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত৷
নুসরাতের আগে দেশটি ৪৯ জন সচেতন বুদ্ধিজীবীদের সই করা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়৷ বিদ্বজনেদের চিঠিতে জয় শ্রীরাম ধ্বনির প্রভাব থেকে গণপিটুনি,এমনই বহু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়৷ দলিত থেকে মুসলিমদের গণপিটুনি, অসহিষ্ণুতার মতো বিষয় ছিলই৷ সেই সঙ্গে জোর দেওয়া হয় জয় শ্রীরাম স্লোগানের প্রভাবে আইন শৃঙ্খলাতেও যে একটা প্রভাব পড়ছে,সে বিষয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করা হয়৷
সেই একই কথা বলেন নুসরাত। ভারতের অখণ্ডতাকে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ নুসরত এদিন বলেন যে ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁরাই দেশের প্রকৃত ভালো চান৷ তাঁদের সমর্থন করেন বলেও এদিন জানান তৃণমূল সাংসদ৷
তাঁর মতে জয় শ্রী রাম ধ্বনির ধুয়ো তুলে দেশে আর্তনাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এই ধ্বনি মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে৷ এদিন গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল সাংসদ৷ তিনি বলেন তথাকথিত গোরক্ষকরা খাবারের নামে, ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করে চলেছে৷ অথচ আশ্চর্যভাবে দেশের কেন্দ্র সরকার চুপ৷ সব দেখেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেই৷
নুসরতের দাবি এই গোরক্ষকরা গরু পাচার, গোমাংস খাওয়ার নামে তাণ্ডব চালানো হচ্ছে গোটা দেশে৷ এই সব গোরক্ষকরা আসলে জঙ্গি৷ যারা দেশের মধ্যে থেকে অশান্তি তৈরি করে চলেছে৷ এরা সবাই দেশের শত্রু৷ একযোগে এদের মোকাবিলা করতে হবে৷
উল্লেখ্য, বুধবারই গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ক্ষেত্রের ব্যক্তিত্বরা উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে৷ এদের মধ্যে ছিলেন অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, গৌতম ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়দের মত ব্যক্তিত্ব৷ ছিলেন চিত্র পরিচালক কেতন মেহতা, অঞ্জন দত্ত, অনুপম রায়, আদুর গোপালকৃষ্ণণ, রূপম ইসলাম, ঋদ্বি সেন, ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ, সংগীতশিল্পী শুভা মুদগলরাও৷
বার্তাবাজার/এএস