নীলফামারীতে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বুধবার কয়েক ধাপে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে বেলা ১২ টায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং বিকেল তিনটায় নদীর বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
চার ঘটার ব্যবধানে ধাপে ধাপে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ফের অবনতি ঘটেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত সোমবার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে যা বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বেলা ১২টায় ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ সেন্টিমিটার এবং বেলা তিনটায় আরো ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ছয়টায় আরো ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের হাইডোলজী বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ.এস.এম আমিনুল রশীদ জানান, গত ৮ জুলাই থেকে তিস্তা নদীর পানি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
১৩ জুলাই অতীতের সব রেকর্ড ব্রেক করে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর ১৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নেমে ২২ জুলাই থেকে আবারও নদীর পানি কমা-বাড়ার মধ্যে থাকে। তবে বুধবার বেলা ১২টা থেকে ছয় ঘন্টায় পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।
তিনি আরো জানান, ‘তিস্তা নদী উজানে (ভারত) ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে। রাতে আরো নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।’
চার ঘন্টার ব্যবধানে পানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রায় ১৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে এসব গ্রামের অন্তত ১০ সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, ‘তিস্তার পানি বাড়া কমায় ভোগান্তি কমছে না তিস্তাপাড়ের মানুষের। প্রথম দফার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর গত সোমবার আবারও বিপৎসীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে বন্যা কবলিত মানুষ। বুধবার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আমার ইউনিয়নের দুটি গ্রামের এক হাজার ৬৮০ পরিবার পুনরায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টির আর পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকার কারণে বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বেলা ১২টা থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিঘন্টায় যে ভাবে পানির ঢল উজান থেকে আসছে তাতে নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসআর