ফেনী শহরে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহে পরিদর্শনে নেমেছে পৌরসভা। এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স, মূল্য তালিকা, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা এমনকি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নানা অনিয়ম খোঁজা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী শহরে ২৪টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ২৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করে জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির আহবায়ক ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী ও সদস্য সচিব মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণপদ সাহা, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর কৃষ্ণময় বনিক। ওই কমিটির সদস্য রয়েছেন ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না ও ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবদীন লিটন, ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ।
উল্লেখিত কমিটি শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনে নেমেছেন। ফেনী পৌরসভার পরিদর্শন টিম ট্রাংক রোডের সাইকা হেলথ কেয়ার সেন্টার, আল্টা প্যাথ, মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, শতাব্দি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, শেভরণ, সেনসিভ হাসপাতাল, ভাইটাল-১, সুমন আরা ডেন্টাল, মুক্তা ডেন্টাল ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।
এসময় সাইকা হেলথ কেয়ার সেন্টারের সকল কাগজপত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র, অগ্নি নির্বাপন, বজ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি পরিদর্শন দল সন্তুষ্ঠ হয়ে অভিনন্দন জানান। এবং ফেনী পৌরসভার পক্ষ থেকে সাইকা হেলথ কেয়ারকে অভিনন্দন পত্র দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে পরিদর্শন টিম। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, বজ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকা ও লাইসেন্স নবায়ন না করা, অতিরিক্ত ফি আদায় করায় সতর্ক করা হয়। এদিকে পরিদর্শন দল আসার খবর পেয়ে তালাবন্ধ করে পালিয়ে যান জয়কালী মন্দির মার্কেটে অবস্থিত মুক্তা ডেন্টাল ক্লিনিক এর মালিক এস.কে সরকার।
প্রথমদিনই শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের উপশম হাসপাতাল, আল-বারাকা হাসপাতাল, আল-কেমী হাসপাতাল ও ফেনী সিটি স্ক্যান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে দেখা যায় ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে আল-কেমী হাসপাতালের ফার্মেসী ও রেষ্টুরেন্ট। একইসাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যাব কক্ষ ও রেষ্টুরেন্টের রান্নাঘর অপরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়। আল-বারাকা হাসপাতালের ল্যাব অপরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য অপসারণের বক্স পাওয়া যায়নি। উপশম হাসপাতালের মূল্য তালিকা অসামঞ্জস্য দেখা যায়। ফেনী সিটি স্ক্যান সেন্টারের ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
কমিটির আহবায়ক ও পৌরসভার কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী জানান, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পৌরসভার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সবকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাবাজার/এসআর