রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তাছলিমা বেগম রেণুকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার শুনানিতে কেঁদেছেন তার আইনজীবীরা। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে রেণুর সন্তান তুবার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম ও মাইদুল ইসলাম পলক।
আইনজীবীরা বলেন, ‘ছেলে ধরা গুজবে অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এ মামলার ভিকটিমের ছোট একটা বাচ্চা আছে। বাচ্চাটা তার জন্য এখনো অপেক্ষা করছে তার মা আসবে। সে জানে না যে তার মারা আর নেই।’ কথাগুলো বলার সময়েই কেঁদে ফেঁলেন আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম ও মাইদুল ইসলাম পলক।
এদিন হৃদয়ের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত তাই সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেন। রেণুকে কেন মারতে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে উত্তরে হৃদয় বলেন, ‘এক মহিলা বলে তিনি গলাকাটা। ওই মহিলার ছবিও আছে। ওই মহিলাকে স্কুলের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাকে মারা হয়। এরপর নীচে এনে তাকে অনেকে মারে। এরপর আমি মারি। ওই মহিলার কথায় তাকে আমি মেরেছি। স্যার আমার মা-বাবা নেই। আমাকে মাফ করে দেন।’ এ সময় আদালতে রেনুর ১১ বছরের ছেলে তাসিন আল মাহিন ও মামলার বাদী নাসির উদ্দিন টিটু উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত হৃদয়ের ৫ দিনের রিমন্ডে মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদয়কে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় নানির বাড়ী থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন। সেখানে বলা হয়, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ধরা পড়ার ভয়ে সে ন্যাড়া হয়ে ছদ্মবেশ নিয়েছিল।
সেইসঙ্গে সে রেনুকে হত্যার পর ওইদিন তার পরনে যে পোশাক পরা ছিল তা নানিকে দিয়েছিলেন পুড়িয়ে ফেলার জন্য। সে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনের নামও বলেছেন। এছাড়া প্রথমে যে নারী ছেলেধরা গুজব সৃষ্টি করেছিল, সেই নারীকেও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।